গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা-হেফাজতে মৃত্যুর সময় ফিরে না আসুক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিজে গুমের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত) আমলে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকার চায় না, বাংলাদেশে আর কখনো ওই রকম সময় ফিরে না আসুক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় বিকেল ৪টার পরে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও নিহত পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কমিটি। উপস্থিত আমন্ত্রিতরা নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও এখনকার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চায়, গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হবে, দেশে আর কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, কেউ গুমের শিকার হবে না, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবে না, কারা হেফাজতে কারও মৃত্যু হবে না। এ রকম একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। সরকার তাদের এ আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে প্রতিপালন করবে।
এসব অপরাধ প্রতিরোধের জন্য যা কিছু সংবিধানে ধারণ করা প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে ধারণ করা হবে এবং যেখানে আইন-বিধি প্রয়োজন, সেখানে আইন-বিধি করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, যেটি যেভাবে করা প্রয়োজন, সেটি সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মতবিনিময়ে একটি অভিন্ন বক্তব্য এসেছে— দেশে যেন ভবিষ্যতে কেউ গুমের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থা যেন করা হয়। গুমসংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোর যেন দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার হয়। যারা গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে আসেননি, তাদের পরিবার সহায়তার জন্য আবেদনও করেছেন। সরকার এরই মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন করেছে।

বিএনপি সরকারের আট মাসের মধ্যে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুমের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি অভিযোগ আছে, সেটি নিয়ে সরকার তদন্ত করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অনেক মানবাধিকার সংস্থা এটা নিয়ে প্রশ্ন উপস্থাপন করলে তাদেরও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কেউ এখন পর্যন্ত ‘ম্যাটেরিয়াল’ অভিযোগ দেয়নি।
সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অনেকে গুম হয়েছিলেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, তাদের এ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি উপস্থিত হননি।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল রাস্তায় আন্দোলন করছে। তাদের দাবিগুলো নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এলে কমিটি তাদের বক্তব্য শুনতে পারত। কিন্তু তারা রাস্তার আন্দোলনটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদীর সভায় নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।









-f945a3-256x144.webp)
-cb4383-256x144.webp)



-733cd3-256x144.webp)