দিল্লিতে হাইকমিশনার নিয়োগ, ‘আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে’র অপেক্ষা করতে বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে ভারতের সম্মতি দেওয়া নিয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ ধরনের খবর আমলে না নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব খবর আমলে না নিতে তিনি অনুরোধ করবেন। একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ না করারও অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানায়, ঢাকার প্রস্তাবের এক মাসের বেশি সময় পরও আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে ভারত সম্মতি দেয়নি। বিভিন্ন দেশে নতুন হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া গত জুলাইয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে সিয়ামের নিয়োগের জন্য এক মাসের বেশি সময় আগে নয়াদিল্লির সম্মতি চাওয়া হয়।
কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, কোনো দেশে হাই কমিশনার বা রাষ্ট্রদূত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রিমঁ’ প্রয়োজন হয়। ভারতের সেই সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত সিয়ামের নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারবে না ঢাকা। ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও মিশনপ্রধান নিয়োগের আগে স্বাগতিক দেশের সম্মতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সিয়ামের নিয়োগে ভারতের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়াটি এগোতে পারছে না।
















