জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতি পদে প্রার্থী, ৬ প্রতিশ্রুতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফাইল ছবি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফাইল ছবি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারের বক্তব্যে ছয়টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সনদ সমুন্নত রেখে সব সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠাকেই তিনি এ পদে প্রার্থিতার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সেশনে তিনি মোট ছয়টি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আগামী ২ জুন এ পদে নির্বাচন হবে। এ পদের জন্য বাংলাদেশ, সাইপ্রাস ও ফিলিস্তিন প্রার্থী দিয়েছিল। পরে ফিলিস্তিন নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসের সঙ্গে ভোটে লড়তে হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

৮১তম সাধারণ পরিষদের সেশনে সভাপতি নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে বিশ্ব জুড়ে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সামগ্রিক পদ্ধতির পক্ষে কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের ঘাটতি, ঋণের টেকসইকরণ ও চাহিদা পূরণের লক্ষ্য রেখে কাজ করার কথা বলেন।

তৃতীয় অঙ্গীকারে সভাপতি নির্বাচিত হলে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘ক্ষয়ক্ষতি’ তহবিল এগিয়ে নেওয়া এবং জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মানবাধিকার ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা, মানবিক পরিসর রক্ষা করা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সমর্থন করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিচক্ষণ ও ন্যায়সঙ্গত শাসনের প্রতি আহ্বান জানান খলিলুর রহমান। শেষ প্রতিশ্রুতি হিসেবে জাতিসংঘের সংস্কারে বিশেষ জোর দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সূচনা বক্তব্য দেওয়ার পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ পর্যায়ে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হলে তৌহিদ হোসেনকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়তে হয়। তিনি দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।

আগামী সেপ্টেম্বরে বসবে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতি নির্বাচন হবে। আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী এ বছর সভাপতি নির্বাচন করা হবে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে।

এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। প্রায় চার দশক পর ফের এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ। এর মাঝে ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন ও ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement