উপস্থাপক ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ জনের বিচার শুরুর আদেশ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
 মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা ও ডাকাতির মামলায় ছয় আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার।

মামলার ছয় আসামি হলেন আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, হাদিসুর রহমান সাগর, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন। তাঁদের মধ্যে জামিনে থাকা নাহিদ, রিপন ও হাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী জায়েদুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী অব্যাহতির আবেদন করেন।

কারাগারে থাকা আসামি সাগরকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে বাশার ও ফারদীন পলাতক রয়েছেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন নুরুল ইসলাম ফারুকী। দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। ওই রাতেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডের আগে বাসায় দুর্বৃত্তদের প্রবেশের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসার কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। দরজা খুললে দুজন ভেতরে ঢুকে ফারুকীর সঙ্গে বসার ঘরে কথা বলতে বসে। কিছুক্ষণ পর আরও ছয়-সাতজন সেখানে প্রবেশ করে। চেয়ার আনতে ভেতরে যাওয়া ফয়সালের মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ফিরে এসে ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ঠেকানো অবস্থায় আসামিদের দেখতে পান। পরে বাসার লোকজনকে বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগদ টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা লুটের অভিযোগও করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। হত্যা মামলা হলেও তদন্তে হত্যা ও ডাকাতি—দুই অভিযোগই আনা হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad