নাটোরে ছাত্রদল নেতা খুন: বিএনপির এমপির ছেলে ৩ দিনের রিমান্ডে

নাটোর প্রতিনিধি
হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (বাঁয়ে) এবং সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
হামলায় নিহত গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (বাঁয়ে) এবং সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক এ আদেশ দেন।

গুরুদাসপুরের আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পরিদর্শক আসমাউল হক। এর আগে সোমবার রাতে নুরুজ্জামানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ১২ দিন পর সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

শাকিল গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, ১৪ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিলের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুটি গুলি করা হয়। পালানোর সময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাকিলের মৃত্যুর পর সোমবার রাতে নুরুজ্জামানকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে গুরুদাসপুর থানায় নেওয়া হয়। পরে নাটোর জেলা সদরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের দুই ছেলে নুরুজ্জামান ও মাহমুদুজ্জামান স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। নুরুজ্জামান গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার ছোট ভাই মাহমুদুজ্জামান গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক।

ছাত্রদলের একাধিক সূত্রের দাবি, দুই ভাইয়ের আলাদা অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বও আছে। নিহত শাকিল ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের কাছারিপাড়ায় শাকিলের বাড়িতে যান সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। সেখানে তিনি নিহতের বাবা রবিউল করিম ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট

গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাকিল। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয় আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে।”

পোস্টে আরও লেখেন, “যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডাইরি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ডাইরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।”

পোস্টটির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad