৬ সিটির প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া।
আদালতের রিট খারিজের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত রিটটি ‘অপরিপক্ব’ উল্লেখ করে খারিজ করে দিয়েছেন। তারা (প্রশাসক) কতদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা সরকার বিবেচনা করবে।”
গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ছয়টি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ক ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আব্দুস সালাম, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে শওকত হোসেন সরকারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় বিধি অনুযায়ী তারা সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন।
প্রশাসক নিয়োগের ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৪ মার্চ হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী। তারা হলেন— গোলাম কিবরিয়া, জিল্লুর রহমান, আবু দাউদ নিজামী, ইসমাইল হোসেন, আল মুত্তাকী বিল্লাহ ও সাইফউল্লাহ খালেদ। রিটে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে ছয় সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত সচিব বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনাও চেয়েছিলেন আবেদনকারীরা।













