তাহসিফ হত্যা: দীপের ফের ৩ দিনের রিমান্ড

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
তাহসিফ হত্যা: দীপের ফের ৩ দিনের রিমান্ড

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আটটি কারণ উল্লেখ করে দীপকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে দীপের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ আবেদন বাতিলের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে আট কারণ

আবেদনে বলা হয়, তাহসিফ সাউরি হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সন্দেহভাজন আসামি দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে দেখা গেছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে শেষবার তাদের সঙ্গেই তাহসিফকে দেখা গেছে। এ অবস্থায় মামলার ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে দীপকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও আবেদনে বলা হয়েছে। রিমান্ডের পক্ষে আটটি কারণ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো:

১. বিভিন্ন স্থানের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ভিডিও পর্যালোচনার সময় দীপের উপস্থিতি যাচাই ও বিশ্লেষণ করা।

২. তাহসিফের সঙ্গে ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ থাকার সময় দীপ কিছুক্ষণের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা।

৩. তাহসিফ, দীপ ও অন্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা।

৪. হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করা।

৫. অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা।

৬. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা।

৭. হত্যার উদ্দেশ্য বা মোটিভ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

৮. হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ করা।

যেভাবে সামনে আসে দীপের নাম

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। ২৯ অক্টোবর দীপ জানিয়েছিলেন, তারা একসঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেয়েছিলেন। পরে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় দীপের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাঁকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। পরে শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনে যান পিবিআই কর্মকর্তারা।

এ মামলায় রোববার তাহসিফের ‘বান্ধবী’ জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad