ইতালি পাঠাতে ১২ লাখ টাকার চুক্তি— লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর কথা বলে নোয়াখালীর এক তরুণকে লিবিয়ায় পাচার ও সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির দাবি, গ্রেপ্তার দুজন মানবপাচার চক্রের সদস্য।
সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আশকোনা হাজি ক্যাম্প এলাকার ‘সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের’ সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল।
অভিযোগের বিষয়ে সিআইডি আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই তরুণকে গত এপ্রিলে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ওই তরুণ প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে বিমানের এক সহযাত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে তিনি মানবপাচার চক্রটির ফাঁদে পড়েন। চক্রটি লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল আশকোনার একটি অফিসে নিজের পাসপোর্ট ও অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন ওই তরুণ।
এর একদিন পর, ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের দিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে তাকে পাঠানো হয় মিশরের কায়রোতে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য ওই তরুণকে একটি বাসায় নিয়ে পাঁচদিন আটকে রাখে। সেখানে তার কাছ থেকে আরও ৬ হাজার ডলার আদায় করা হয়। নগদ টাকা, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
সিআইডি বলছে, এরপর কায়রো থেকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে ওই তরুণকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে আরও টাকা আদায়ের জন্য তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই তরুণকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে মুক্ত করার কথা বলে দালাল চক্রটি তার পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করেছিল বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি। গত ৭ জুলাই লিবিয়া পুলিশ ওই তরুণকে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে গত সোমবার তিনি নিজেই বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

















