প্রতিবাদের মুখে ডিআইএতে যোগ দিতে পারলেন না যুগ্ম পরিচালক সালাম আজাদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আব্দুস সালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে (ডিআইএ) আবার ফিরতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম আজাদ। যুগ্ম পরিচালক হিসেবে পদায়নের আদেশ প্রকাশের দিনই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে তাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, অতীতে ডিআইএতে কর্মরত থাকার সময় আব্দুস সালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ ছাড়া গত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে আব্দুস সালাম আজাদের দাবি, পেশাগত ঈর্ষা এবং ডিআইএতে পদায়ন না পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার বিরোধিতার কারণেই তাকে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও নিরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত এ দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২১তম বিসিএসের কর্মকর্তা আব্দুস সালাম আজাদকে ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক হিসেবে পদায়নের বিষয়টি বৃহস্পতিবারের আগেই সংশ্লিষ্ট মহলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত পদায়ন-সংক্রান্ত আদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে আদেশটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পদায়ন আদেশে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছিল।

তবে আদেশ প্রকাশের দিনই তিনি নায়েম থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থল ডিআইএতে যোগ দিতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বাধার মুখে পড়েন। তাদের প্রতিবাদের কারণে শেষ পর্যন্ত যোগদান না করেই ফিরে যান আব্দুস সালাম আজাদ।

এ দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজনীতি ডটকমকে আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তিনি নায়েম থেকে রিলিজ অর্ডার নিয়ে ডিআইএতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। এখন করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

কেন তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর পেছনে পেশাগত ঈর্ষা কাজ করেছে বলে তার ধারণা। তার ভাষ্য, ডিআইএতে যোগ দিতে আগ্রহী কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে পদায়ন না পাওয়ায় তাকে কৌশলে ভিন্নভাবে প্রতিরোধ করেছেন।

তবে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি ডটকমকে বলেন, আব্দুস সালাম আজাদ ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডিআইএতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, অতীতের নানা বিতর্ক ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে আবার একই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।

এদিকে, ‘ফ্যাসিস্টের দোসর ও গুপ্ত অপসারণ পরিষদে’র সভাপতি মো. শরীফ হোসেন রাজনীতি ডটকমকে বলেন, আব্দুস সালাম আজাদ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে পাঁচ বছর ডিআইএতে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী বীরেন সিকদারের সুপারিশে তিনি ডিআইএতে পদায়ন পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শরীফ হোসেন আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলা মামলার তদন্তের সময় আব্দুস সালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ওই কর্মকর্তা আবার ডিআইএতে আসতে এতটা আগ্রহী কেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, টাকা দিয়ে এ পদায়ন নেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে আব্দুস সালাম আজাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্ত করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, ঘুস গ্রহণ কিংবা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার দাবি, তাকে ডিআইএতে যোগ দিতে বাধা দেওয়ার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

২০১৩ সালে ডিআইএতে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়েছিলেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবেও তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন।

আবার ডিআইএতে পদায়নের বিষয়ে আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তিনি সেখানে কাজ করার জন্য আবেদন করেছিলেন। আগে ওই দপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে যুগ্ম পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

আব্দুস সালাম আজাদের ব্যক্তিগত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৩ সালে ডিআইএতে পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন পান এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আব্দুস সালাম আজাদের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি ২২ মে ২০২২ থেকে ১ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) সংযুক্ত হন।

এদিকে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ পরান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসের কাজে সচিবালয়ে ছিলেন। পরে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন।

আব্দুস সালাম আজাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। অফিসে গিয়ে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করবেন। তবে তিনি শুনেছেন, আব্দুস সালাম আজাদকে ডিআইএতে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ, পালটা অভিযোগ এবং যোগদানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে— কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আব্দুস সালাম আজাদকে ডিআইএর যুগ্ম পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হলো। একই সঙ্গে পদায়নের দিনই দ্রুত অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার বিষয়টিও শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদায়নের কাজ ‘আদিষ্ট হয়ে’ করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে সেই আদেশ কে দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Ad
Ad
ad
ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ‘ভর্তি বাণিজ‍্য’ বন্ধের দাবি

জিয়াউল কবির দুলু ও আ স ম আলমগীর বিবৃতিতে বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে ভর্তি বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট হাইকোর্টে রিট করে সরকারি নীতিমালায় অনুযায়ী ৫ শতাংশ বরাদ্দের বাইরেও সহোদর কোটায় বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর আদেশ নিয়ে ভর্তি বাণিজ্য করে আসছে। স্কুলের সব শিক্ষার্থীর সহোদরদের ভর্তি করানো হলে বাইরের আর ক

১৭ ঘণ্টা আগে

নদীভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। এ সহায়তা পেয়ে অসহায় মানুষজন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

১৭ ঘণ্টা আগে

নাগরিক সেবা সহজ ও কার্যকর করতে জনতা ব্যাংক-ডিএসসিসির চুক্তি

নাগরিক সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে জনতা ব্যাংক পিএলসি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মধ্যে নাগরিক সেবা বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সই হয়েছে। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

১৮ ঘণ্টা আগে

ঢাকার বনানীতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু

বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করেছে ভিএফএস গ্লোবাল। আজ বুধবার রাজধানীর বনানীতে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আবেদনকারীরা অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এই কেন্দ্রে ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন।

১৯ ঘণ্টা আগে
Advertisement