রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের অভিযান, ৮ মাসে গ্রেপ্তার ১০৮

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, কক্সবাজার
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৩৮
কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) গত আট মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। গত মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত দুই শতাধিক বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পানবাজার, ময়নারঘোনা ও শফিউল্লাহকাটাসহ মোট ১১টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ১০৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযানে অত্যাধুনিক ইউজেটআই সাব-মেশিন গান, পিস্তল, রিভলবার, ওয়ান শুটারগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশিয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে মোট একটি সাব-মেশিন গান, একটি পিস্তল, ১০টি ওয়ান শুটারগান (পরিত্যক্তসহ), চারটি একনলা বন্দুক, একটি রিভলবার, ৩০ রাউন্ড গুলি, একাধিক ওয়াকিটকি সেট এবং ট্যাকটিক্যাল বেল্ট ও পিস্তল কাভারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), দুই কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার এই পরিমাণ বিগত ২০২৪ সালের পুরো বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ লাখ টাকা উদ্ধারসহ মাদক বিক্রির নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমেও ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবার নির্মূলে তারা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছেন। বিগত সময়ের তুলনায় গত আট মাসে পরিচালিত এসব অভিযানে অনেক বেশি সাফল্য অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী চক্রকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এপিবিএনের এসব অভিযানে অস্ত্র, মাদক উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, এপিবিএনের অনমনীয় অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement