লঘুচাপটি পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে, রূপ নিতে পারে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে

পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি এখন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে, যা ক্রমেই দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এটি ক্রমেই গভীর নিম্নচাপ থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে অধিদপ্তরের আভাস, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
দেশের চার সমুদ্রবন্দর থেকে নিম্নচাপটির দূরত্ব সর্বনিম্ন ৭০০ কিলোমিটার থেকে ৮২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার সকালে অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত আবহাওয়ার ২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নিম্নচাপের গতিবিধির এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান এতে সই করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি শনিবার রাতেই নিম্নচাপে পরিণত হয়। এটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে, স্থানাঙ্কে যার অবস্থান ১৫.২° উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
নিম্নচাপটির সম্ভাব্য গতিবিধি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আভাস, এটি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরও প্রায় একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। রোববার ভোরে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপ থেকে সোমবারই (২৬ অক্টোবর) সাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে, যা মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নাগাদ রূপ নিতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আশঙ্কা, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত তথা বুধবার প্রথম প্রহরে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, যা অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের মাঝামাঝি বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
দেশের সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত
রোববার সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে কক্সবাজারের সবচেয়ে কাছে— ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার ও মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।














