তিনি বলেন, ‘ভারতীয়দের বিরুদ্ধে এবং যাদের ভারতপন্থি বলে মনে করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের বৈরিতা উসকে দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে মার্কিন দূতাবাস।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরে হওয়ার কথা থাকলেও দেশটির কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া যায়নি। সেজন্য সিঙ্গাপুরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে হাইকমিশন।
গণমাধ্যমগুলোকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, ‘দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজের সাংবাদিকদের প্রতি আমরা বলতে চাই— আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা যে সন্ত্রাস ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। সন্ত্রাসের মুখেও আপনাদের সাহস ও সহনশীলতা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। সা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পত্রিকা দুটির সম্পাদকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দুই সম্পাদকের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
গ্রামবাসী জানিয়েছেন, শৈশব থেকেই হাদি ছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। নেছারাবাদ এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমির পাঠ শেষ করেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি কেবল নাম নয়, বরং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি ছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যু পরবর্তী সহিংস ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আজ ও আগামীকাল দেশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে পারে।
সাংবাদিক সন্তানের সেই সাংবাদিক বাবার নির্ঘুম রাত রাত কেটেছে, উদ্বেগে ভরা দীর্ঘতম এক রাত। সন্তান যখন পত্রিকা অফিসে ডিউটিতে, তখন যে ভাঙচুর চালানো হয়ে সেখানে, লাগানো হয়েছে আগুন। টিভি-অনলাইন, ফেসবুক-ইউটিবে কেবল দেখছেন— দাউ দাউ করে জ্বলছে সন্তানের কর্মস্থল, ছেলে ভেতরে আটকা সহকর্মীদের সঙ্গে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশ এক সাহসী কণ্ঠস্বর হারালো।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে প্রথম দুটি পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ‘ছাত্র-জনতা’। নিরাপত্তা ইস্যুতে টিবিএসের ছাপাখানাও বন্ধ ছিল। ফলে তিনটি পত্রিকার কোনোটিই শুক্রবার ছাপা হয়নি।
ডেইলি স্টারে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক রাজনীতি ডটকমকে জানিয়েছেন, আগুন লাগা অবস্থায় ভবনটিতে ডেইলি স্টারের ২৫-৩০ জন সাংবাদিক ভেতরে আটকা পড়েন। আগুন ও ধোঁয়া বাড়তে থাকলে তারা একসময় ছাদে পৌঁছে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ক্রেন ব্যবহার করে দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাদের নামিয়ে আনে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ধাক্কা দিতে দিতে নূরুল কবীরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ তার চুল ধরে টানছিলেন। এ সময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে হেনস্তা করা হয়।
ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানানো হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের আঙুলিয়া মসজিদে হাদির প্রথম জানাজা হবে। এরপর বিকেলে তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে শাহবাগ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্র-জনতা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ একটি দল কারওয়ান বাজারে পৌঁছায়। তারা প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে গেট ভেঙে ভে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তার শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। শহিদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।