নড়াইল-২: দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে মাঠে বিএনপির একাংশ

কার্ত্তিক দাস, নড়াইল
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মো. মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো নড়াইলেও গণসংযোগ ও নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তবে নড়াইল-২ সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ২৪ ডিসেম্বর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি।

এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লোহাগড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি ড. ফরিদুজ্জামানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. মনিরুল ইসলাম। তার সমর্থক-অনুসারীরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। আর এতে বিপাকে পড়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান।

নড়াইল-২ আসনের একাধিক বাসিন্দা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে মূলত ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অন্য প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন বলে মনে করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মো. মনিরুল ইসলামের পক্ষে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান পলাশ, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমান শান্টু, সাধারণ সম্পাদক মিলু শরীফসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মী সক্রিয় রয়েছেন।

নড়াইল জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. তবিবুর রহমান মনু বলেন, “যারা কোনোদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, এমনকি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সদস্যও নন— রহস্যজনক কারণে তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মী আসন রক্ষায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।” কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই না করায় বিদ্রোহী প্রার্থিতার সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. টিপু সুলতান বলেন, “মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে দলের কিছু পদধারী নেতা প্রচারণায় নেমেছেন।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ধানের শীষের ভোট কেটে অন্য প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করছেন।” তার দাবি, বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের পক্ষেই কাজ করছেন এবং তিনিই বিজয়ী হবেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান পলাশ বলেন, “মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দল গোছানোর কাজ করেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলখাটা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটও হয়েছে। এতো কিছুর পরও তার মনোনয়ন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” সাধারণ মানুষের অনুরোধেই মো. মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান তিনি।

মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, “বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মো. মনিরুল ইসলাম নিজেই নির্বাচনে নেমেছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, দলের কিছু নেতাকর্মী তার বিপক্ষে কাজ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছেন। বলেন, “মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন আমি মনিরুল ইসলামের বাসায় গিয়েছিলাম, বাসায় তালা ঝুলছিল। ভেবেছিলাম তার হাত দিয়েই আমার মনোনয়নপত্র জমা দেব। কিন্তু সে সুযোগটুকু পেলাম না।” তবে দলের সম্মান রক্ষায় শেষ পর্যন্ত মো. মনিরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলামের অনুসারীরা। তাদের দাবি, তারা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনি প্রচারে কাজ করছেন।

মো. মনিরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে কোনো দলের প্রার্থী নন। নড়াইলের সাধারণ মানুষের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নিজেকে দল-মত নির্বিশেষে নড়াইলের সকল মানুষের প্রার্থী দাবি করে তিনি কলস প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তেভাগা আন্দোলনের পুরোধা কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজন

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

৭ ঘণ্টা আগে

উত্তরায় বাসায় ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৩ জনের

রাজধানীর উত্তরায় সাত তলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ওই ভবন থেকে আরও ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

৮ ঘণ্টা আগে

বাগেরহাটে সিলভার লাইন গ্রুপের উদ্যোগে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালু

‘স্মার্ট লাইফ ফ্রি ওয়াইফাই’— স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিলভার লাইন গ্রুপ বাগেরহাট জেলার সব ইউনিয়নে সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) সেবা চালু করেছে।

১৮ ঘণ্টা আগে

ময়মনসিংহ-৯: প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র হাসিনা, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

হাসিনা খান চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে নান্দাইলের বিভিন্ন স্থানে তার সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনি মাঠে তিনি একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১৯ ঘণ্টা আগে