
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

বন্যা নিয়ন্ত্রণে নেই বেড়িবাঁধ। বাঁধের বাইরে থাকতে হয় বলে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি সবই ডুবে যায়। আবার ভাটায় ভেসে ওঠে। এই অবস্থায় পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এবং কৃষি জমি রক্ষায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। নিজেদের অবস্থা তুলে ধরতে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলা গাছে তৈরি ভেলায় ভেসে!
সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামে টিয়াখালী নদীর পাড়ে জোয়ারের সময় পানির ওপর ভেলায় ভেসে এই সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।
ভেলার ওপর দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গণগবেষক মোসা. হালিমা আয়শা বলেন, এই পশ্চিম লোন্দা গ্রামের ২৫০টি দরিদ্র পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছে। এই গ্রামে রয়েছে ২০০ একরেরও বেশি কৃষিজমি। আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাঁধ না থাকায় এখানকার পরিবারগুলো প্রায় সারা বছরই জোয়ারে ডুবছে এবং ভাটায় ভাসছে। তাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং কৃষিজমি রক্ষায় এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।
হালিমা আয়শা আরও বলেন, এই ন্যায্য দাবি আদায়ে গত বছর অক্টোবর মাসে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জোয়ারের সময় পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ হিসেবে মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করেছি। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলাপাড়া কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তরা সরাসরি দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতে আজ আমরা কলাগাছের ভেলায় ভেসে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শাহীন মোল্লা বলেন, প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও অমাবস্যা-পূর্ণিমায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময়ে চার দিন পর্যন্ত আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে ছিল। জোয়ার-ভাটায় কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বছরে একবার আবাদ করতেও আমাদের কষ্ট হয়।
স্থানীয় বেল্লাল হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে তাদের প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন ফসলি জমিতে এক ফসলও আবাদ করা কষ্ট হয়ে যায়। দিন কাটে অভাব-অনটনে পড়তে হচ্ছে তাদের । এ অবস্থায় এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন।
রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারের পানির প্লাবনে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। চুলায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্না করতে পারে না। গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অসহনীয় দূর্ভোগ থেকে তাদের বাঁচানোর দাবি জানান তারা।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম বলে, জোয়ারের সময় বাড়িতে পানি ওঠে। ঘিরেও পানি ঢুকে যায়। স্কুলে যেতে পারি না। আমরা বাঁধ চাই।
হালিমা আয়শা জানান, জোয়ার-ভাটার এ পরিস্থিতিতে এলাকায় কৃষি উৎপাদন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। এখানে সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অসহনীয় দূর্ভোগ থেকে এলাকার ২৫০টি পরিবার ও ২০০ একর তিন ফসলি জমি রক্ষার জন্য পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদীর তীরে দক্ষিণ দিকে নূর হোসেনের বাড়ি থেকে উত্তর দিকে খালেদ প্যাদের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক তিন কিলোমিটার জলকপাটসহ টেকসই রিং বেড়িবাঁধ একান্ত প্রয়োজন।
জানতে চাইলে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, এলাকাটি বেড়িবাঁধের বাইরে হওয়ায় সেখানে আমাদের কিছু করার নাই। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে ওই এলাকার মানুষের জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে পারে।
পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মীর হোসেন আলী বলেন, রাজস্ব খাতের অর্থ দিয়ে ওই এলাকায় আমরা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দিতে পারব। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে আমাদের অবহিত করলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারব।

বন্যা নিয়ন্ত্রণে নেই বেড়িবাঁধ। বাঁধের বাইরে থাকতে হয় বলে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি সবই ডুবে যায়। আবার ভাটায় ভেসে ওঠে। এই অবস্থায় পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এবং কৃষি জমি রক্ষায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। নিজেদের অবস্থা তুলে ধরতে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলা গাছে তৈরি ভেলায় ভেসে!
সোমবার (১১ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামে টিয়াখালী নদীর পাড়ে জোয়ারের সময় পানির ওপর ভেলায় ভেসে এই সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।
ভেলার ওপর দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গণগবেষক মোসা. হালিমা আয়শা বলেন, এই পশ্চিম লোন্দা গ্রামের ২৫০টি দরিদ্র পরিবার প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছে। এই গ্রামে রয়েছে ২০০ একরেরও বেশি কৃষিজমি। আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাঁধ না থাকায় এখানকার পরিবারগুলো প্রায় সারা বছরই জোয়ারে ডুবছে এবং ভাটায় ভাসছে। তাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং কৃষিজমি রক্ষায় এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।
হালিমা আয়শা আরও বলেন, এই ন্যায্য দাবি আদায়ে গত বছর অক্টোবর মাসে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জোয়ারের সময় পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ হিসেবে মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করেছি। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলাপাড়া কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তরা সরাসরি দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতে আজ আমরা কলাগাছের ভেলায় ভেসে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শাহীন মোল্লা বলেন, প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও অমাবস্যা-পূর্ণিমায় অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময়ে চার দিন পর্যন্ত আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে ছিল। জোয়ার-ভাটায় কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বছরে একবার আবাদ করতেও আমাদের কষ্ট হয়।
স্থানীয় বেল্লাল হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে তাদের প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন ফসলি জমিতে এক ফসলও আবাদ করা কষ্ট হয়ে যায়। দিন কাটে অভাব-অনটনে পড়তে হচ্ছে তাদের । এ অবস্থায় এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন।
রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারের পানির প্লাবনে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। চুলায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্না করতে পারে না। গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অসহনীয় দূর্ভোগ থেকে তাদের বাঁচানোর দাবি জানান তারা।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম বলে, জোয়ারের সময় বাড়িতে পানি ওঠে। ঘিরেও পানি ঢুকে যায়। স্কুলে যেতে পারি না। আমরা বাঁধ চাই।
হালিমা আয়শা জানান, জোয়ার-ভাটার এ পরিস্থিতিতে এলাকায় কৃষি উৎপাদন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। এখানে সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অসহনীয় দূর্ভোগ থেকে এলাকার ২৫০টি পরিবার ও ২০০ একর তিন ফসলি জমি রক্ষার জন্য পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদীর তীরে দক্ষিণ দিকে নূর হোসেনের বাড়ি থেকে উত্তর দিকে খালেদ প্যাদের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক তিন কিলোমিটার জলকপাটসহ টেকসই রিং বেড়িবাঁধ একান্ত প্রয়োজন।
জানতে চাইলে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, এলাকাটি বেড়িবাঁধের বাইরে হওয়ায় সেখানে আমাদের কিছু করার নাই। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে ওই এলাকার মানুষের জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে পারে।
পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মীর হোসেন আলী বলেন, রাজস্ব খাতের অর্থ দিয়ে ওই এলাকায় আমরা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দিতে পারব। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে আমাদের অবহিত করলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারব।

বাগেরহাটের রামপালে ক্লাসে গান গাইতে না পারায় এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীর নাম নেওয়াজ তালুকদার, সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
১ দিন আগে
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক এক যুবককে তার স্বজনরা বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের উত্তর বড়ময়দান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। তিনি করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
১ দিন আগে
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শাকিল আহমেদ (২২) নামের ওই শিক্ষার্থীকে পঞ্চগড়ের হাকিম আদালতে (দেবীগঞ্জ) হাজির করা হলে বিচারক মো. মোস্তাকিম ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
১ দিন আগে