মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে তেলের দর ১১০ ডলার ছাড়াল
-cf86ac.jpg)
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধান নৌপথগুলোতে ঘন ঘন হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে আবার উত্তাপ ছড়িয়েছে। লোহিত সাগরের ঝুঁকি, হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে সংঘাত এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি বাজারবিষয়ক বার্তা সংস্থা আল-জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ ডলার ২১ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে গিয়ে ঠেকে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৯৯ ডলারে পৌঁছে যায়। এর আগে মঙ্গলবার এবং গত সপ্তাহেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম এই সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছিল, যা পরবর্তীতে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের ঘরে নেমে আসে। এর আগে গত ১৯ মে ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম রেকর্ড করা হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ১১১.২৮ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য প্রদানকারী সংস্থা 'অয়েলপ্রাইসডটকম'-এর তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার লেনদেনের সময়ভেদে ব্রেন্ট ক্রুড ১০৯.৬৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৯৮.৮১ থেকে ৯৮.৫৫ ডলারে হাতবদল হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, তেলের বাজারে এই চরম অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। গত দুই সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অন্তত ১৮টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে দারুণভাবে ব্যাহত করেছে।
পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এবং তেল সরবরাহের পথগুলো অনিরাপদ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে।














