রূপালী ব‍্যাংকে আটকে থাকা এসএস পাওয়ারের ৩২ লাখ ডলারের ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ০২
এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার–১ লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ঋণের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ছাড় করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কয়লা, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানির জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ অনুমতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ মো. কবির আহমাদ প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংকের অংশের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় ও বিদ‍্যুৎকেন্দ্রটির অনুকূলে এলসি পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে রূপালী ব্যাংক অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ঋণ ছাড় করতে পারবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা, স্পেয়ার পার্টস ও অন্যান্য সামগ্রী আমদানিতে এলসি খুলতে পারবে।

রূপালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড গত ২৩ জুলাইয়ের চিঠির মাধ্যমে দুটি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি সনদ বা অনুমতি চেয়েছিল। এর একটি ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা, স্পেয়ার পার্টস ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানিতে এলসি খোলা এবং অন্যটি ছিল অবশিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থ ছাড়।

রূপালী ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে ‘উইলফুল ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী, বিষয়টি নিষ্পত্তি ও খেলাপির অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন করে ঋণ ছাড় বা অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতির কারণে রূপালী ব্যাংক অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণ ছাড় করতে পারছিল না।

এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিষয়টির জরুরি প্রকৃতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় ঋণের অর্থ ছাড় ও এলসি খোলার অনুমতি পেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এড়ানো যাবে।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অবশিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থ ছাড়ের জন্য অনুমতি এবং ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার অনুমতি চাওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিয়ে জানিয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে অনুমোদিত ওই বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংকের অংশের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় এবং এলসি পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান কার্যকর হবে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় তৈরি হবে না। ভবিষ্যতেও রূপালী ব্যাংক এ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

জানতে চাইলে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. ইবাদত হোসেন ভূঁইয়া রাজনীতি ডটকমকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণপত্রের জন্য ৩২ লাখ ডলার ছাড়ের অনুমতি উল্লেখ করে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, সিন্ডিকেশন মেম্বার হিসেবে রূপালী ব্যাংকের কাছে ১২ ও ১৩ তম কিস্তির যে টাকা আটকে ছিল সেটি ছাড় করা হয়েছে। তাই এটিকে ঋণপত্র বলা যায় না।

এদিকে বাংলাদেশ ব‍্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ তৈরি হলো, অন্যদিকে উইলফুল ডিফল্টার সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিনিষেধের মধ্যেও নির্দিষ্ট ঋণ সুবিধা ও এলসি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রূপালী ব্যাংককে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলো।

রূপালী ব্যাংক সূত্র জানায়, এই ৩২ লাখ ডলার ছাড়া সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে এসএস পাওয়ার আরও তিন লাখ ২২ হাজার ডলার পাবে রূপালী ব‍্যাংকের কাছে। তবে এসএস পাওয়ারের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঋণের আর প্রয়োজন হবে কি না— সেটি পাওয়ার প্ল্যান্ট কতৃর্পক্ষ পরবর্তী সময়েসিদ্ধান্ত নেবে। তবে ৫ আগস্টের পর যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল বকেয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে, সেটি পুরোপুরি দূর হলো।

উল্লেখ‍্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয় ২০২৩ সালের শুরুতে। আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটি থেকে নিয়মিত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নে বড় পরিবর্তন, ইক্যুইটি-ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১

সংশোধিত বিধানে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে। পাশাপাশি কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।

১ দিন আগে

ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

১ দিন আগে

ইরান ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই ঊর্ধ্বমুখী তেলের বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার বা দূরবর্তী সরবরাহ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ২৭ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯১.১৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এর আগের কার্যদিবসেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

২ দিন আগে

দেশের বাজারে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ল সোনা

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫ দিন আগে