
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পেই বরাদ্দ রয়েছে অর্ধেকের বেশি— চার হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
হিসাব বলছে, পাস হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি— ৫৩ দশমিক ১৮ শতাংশই গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন-সংস্কারে। এর মধ্যে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলা ও সব উপজেলায় পাঁচ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং সাত হাজার মিটার সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
একনেকে এ দিন অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা’ বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কের অবস্থা মূল্যায়ন করে যেসব এলাকায় মানুষ সবচেয়ে বেশি যাতায়াত সমস্যায় ভুগছে, সেসব সড়ককে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি নির্বাচন করা হয়েছে। এগুলো মূলত মেরামত কাজ। সড়ক সংস্কারের পর সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণ এখনো সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্রগুলোর একটি। এ কারণে কার্যকর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট সংস্কার করা হবে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পৃথক প্রকল্প নেওয়া হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্রামীণ সড়ককে আরও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রথম বছরে ১০০ কিলোমিটার সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে রাবার-বিটুমিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একনেক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
এ ছাড়া ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ‘সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে চারটি সেতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সেতুর কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ক্ষয়ক্ষতি বড় আকার ধারণ করার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেক সভায় বড় সেতু, টানেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ভবিষ্যতে এ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেন দেশে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল গড়ে ওঠে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে। এর মধ্যে ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করাবিষয়ক তৃতীয় সংশোধিত একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের ফলে এ প্রকল্পের ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা কমেছে।
বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পের মধ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রামু সেনানিবাসে আট হাজারের বেশি সেনাসদস্যের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পাহাড় কেটে সমতল না করে বিদ্যমান ভূপ্রকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে ভবন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জমির স্বাভাবিক উচ্চতা বিবেচনায় রেখে ভবনের নকশা প্রণয়ন করতে হবে।
সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৯টি প্রকল্পের বিষয়েও একনেককে অবহিত করা হয়, যেগুলো এরই মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
বৈঠকে দুটি প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, একই ধরনের প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরিকল্পনা কমিশন বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গত ১৮০ দিনে সরকার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নির্ভর পদ্ধতি থেকে সরে এসে কর্মসূচিভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ পদ্ধতিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মতো একই ধরনের প্রকল্পগুলোকে একটি অভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এতে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘাটতিগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকেও সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকল্পের ধারণাপত্র তৈরি থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন, অনুমোদন ও কার্যাদেশ জারি পর্যন্ত সময় লাগে দেড় থেকে চার বছর। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি সংশোধিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারি উদ্যোগের প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একনেক সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরাও বৈঠকে অংশ নেন।

৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পেই বরাদ্দ রয়েছে অর্ধেকের বেশি— চার হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
হিসাব বলছে, পাস হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি— ৫৩ দশমিক ১৮ শতাংশই গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন-সংস্কারে। এর মধ্যে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলা ও সব উপজেলায় পাঁচ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং সাত হাজার মিটার সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন করা হবে।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে আট হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
একনেকে এ দিন অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা’ বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কের অবস্থা মূল্যায়ন করে যেসব এলাকায় মানুষ সবচেয়ে বেশি যাতায়াত সমস্যায় ভুগছে, সেসব সড়ককে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি নির্বাচন করা হয়েছে। এগুলো মূলত মেরামত কাজ। সড়ক সংস্কারের পর সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় রক্ষণাবেক্ষণ এখনো সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্রগুলোর একটি। এ কারণে কার্যকর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট সংস্কার করা হবে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পৃথক প্রকল্প নেওয়া হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, গ্রামীণ সড়ককে আরও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রথম বছরে ১০০ কিলোমিটার সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে রাবার-বিটুমিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একনেক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
এ ছাড়া ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ‘সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে চারটি সেতুর অবস্থা পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সেতুর কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ক্ষয়ক্ষতি বড় আকার ধারণ করার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, একনেক সভায় বড় সেতু, টানেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও ভবিষ্যতে এ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেন দেশে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল গড়ে ওঠে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে। এর মধ্যে ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করাবিষয়ক তৃতীয় সংশোধিত একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের ফলে এ প্রকল্পের ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা কমেছে।
বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পের মধ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রামু সেনানিবাসে আট হাজারের বেশি সেনাসদস্যের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পাহাড় কেটে সমতল না করে বিদ্যমান ভূপ্রকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে ভবন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জমির স্বাভাবিক উচ্চতা বিবেচনায় রেখে ভবনের নকশা প্রণয়ন করতে হবে।
সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৯টি প্রকল্পের বিষয়েও একনেককে অবহিত করা হয়, যেগুলো এরই মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
বৈঠকে দুটি প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, একই ধরনের প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরিকল্পনা কমিশন বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গত ১৮০ দিনে সরকার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নির্ভর পদ্ধতি থেকে সরে এসে কর্মসূচিভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ পদ্ধতিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মতো একই ধরনের প্রকল্পগুলোকে একটি অভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এতে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘাটতিগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকেও সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকল্পের ধারণাপত্র তৈরি থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন, অনুমোদন ও কার্যাদেশ জারি পর্যন্ত সময় লাগে দেড় থেকে চার বছর। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি সংশোধিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ ছাড়া একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারি উদ্যোগের প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও প্রতিনিধিত্বশীল তথ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একনেক সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরাও বৈঠকে অংশ নেন।

সংশোধিত বিধানে কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত সর্বোচ্চ ১:১ থাকবে। পাশাপাশি কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চারগুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।
১ দিন আগে
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার বা দূরবর্তী সরবরাহ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ২৭ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯১.১৪ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। এর আগের কার্যদিবসেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
২ দিন আগে
নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ দিন আগে