কয়েক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে নেত্রকোনা এক্সেসরিজ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৫, ২২: ৪১
নেত্রকোনা এক্সেসরিজ লিমিটেডের বন্ডেড ওয়্যারহাউস
নেত্রকোনা এক্সেসরিজ লিমিটেডের বন্ডেড ওয়্যারহাউস

বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা ৬৬০ মেট্রিক টন কাঁচামাল অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি ১৩ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত মেসার্স নেত্রকোনা এক্সেসরিজ লিমিটেড। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ অভিযানে প্রাথমিকভাবে এই ক্ষতি নিরূপণ করা হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গার্মেন্টস ও তৈরি পোশাক (নীট) কারখানাটির সর্বশেষ ইউটিলাইজেশন পারমিট (ইউপি) অনুযায়ী আমদানিকৃত কাঁচামাল কেবল রফতানিমুখী পণ্যে ব্যবহারের অনুমতি ছিল।

তবে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর) এর তদন্তে দেখা যায়, গাজীপুরের কেওয়া পূর্বখণ্ড, কেওয়া বাজার এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি এসব কাঁচামালের বড় একটি অংশ উৎপাদনে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলেছে। এ-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রাজনীতি ডটকমের কাছে এ বিষয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জরিমানা বা বকেয়া পরিশোধ করার কথা জানিয়েছে এর মালিকপক্ষ।

বন্ড বা বন্ডেড ওয়্যারহাউস হলো এমন একটি সুরক্ষিত গুদাম যেখানে শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই আমদানিকৃত কাঁচামাল সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে তা দিয়ে তৈরি পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাঁচামালের হিসাব ও উৎপাদনের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং শিগগিরই বিন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস সূত্রে আরও জানা গেছে, আমদানিকৃত বন্ডেড কাঁচামাল ঘরোয়া বাজারে বিক্রি করার আশঙ্কা রয়েছে, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের মালিক লাভবান হলেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স নেত্রকোনা এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিয়মনীতি, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা, সুদের হার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া তিনি একটি দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের প্রক্রিয়ায় আটকে গেছেন। এ কারণে কিছুটা ত্রুটি বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে স্বীকার করে তিনি জানান, কাস্টমস বিভাগ যৌক্তিকভাবে শুল্ক বা জরিমানা আরোপ করলে তা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করার সুযোগ চান।

শুল্কের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা হবে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক মূল্যায়নে যে পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ হবে, তা পরিশোধ করবেন। পাশাপাশি বিন বন্ধ না করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, ব্যবসা বন্ধ করা হলে বকেয়া বা জরিমানা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
কয়েক কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে নেত্রকোনা এক্সেসরিজ