‘কুলাঙ্গার’ না বললেও বক্তব্য বদলাবেন না রাশেদ প্রধান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ১২
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ‘কুলাঙ্গার’ শব্দ ব্যবহারের জন্য বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “ভবিষ্যতে আর ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি, কিন্তু অতীত থেকে ব্যবহার করে আসা আমার বক্তব্য একই।”

আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ প্রধান বলেন, “আমার বলা যে শব্দটি নিয়ে বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী ক্ষেপে গেল, সেটা কোনো অশ্লীল বা গালিগালাজ না। তারা ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থটাই জানে না, ভুল একটা অর্থ ভেবে আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে গেছে। আমি তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ জানতে চাইলে রাশেদ প্রধান বলেন, “আমার শিক্ষাগত যোগ্যতায় যতটুকু পড়েছি, আমি যেটা বুঝি— ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ কুল (বংশ) + অঙ্গার (কলঙ্ক) = ‘বংশের কলঙ্ক’। ‘কুলাঙ্গার’ হলো এমন ব্যক্তি, যার কার্যক্রমে তার পরিবার কলঙ্কিত বা অপমানিত হয়। তারপরেও যেহেতু বিএনপি কর্মীরা কুলাঙ্গার শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।’

রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমি ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি এখন আর নেই। তারেক রহমান তার পিতা-মাতার আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি পিতা-মাতার সম্মান নষ্ট করেছেন, তাদের অপমান করেছেন।’

তিনি বলেন, “গত ১৫ এপ্রিল এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও গত ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতের বক্তব্যের সঙ্গে ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য একটিমাত্র শব্দ, সেটি হচ্ছে ‘কুলাঙ্গার’।”

রাশেদ প্রধান আরও বলেন, ‘আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির সমর্থকগোষ্ঠী প্রতিবাদ, মিটিং, মিছিল আমার কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানান কর্মসূচি পালন করেছেন। সেটা করার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। আমি সরকারপন্থি নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, জনগণের প্রাপ্য অধিকারের জন্য কথা বলা আমার দায়িত্ব। সেই কাজটি করার জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় আমি চুপ ছিলাম না, আজও চুপ থাকব না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হচ্ছে— জনগণকে যে অঙ্গীকারগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পালন করাটা সরকারের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দল হিসেবে যেকোনো ব্যত্যয় হলে তা মনে করিয়ে দেওয়াটা আমার কাজ, আমাদের কাজ।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement