মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর— এমপি মিষ্টির দিকে অভিযোগের আঙুল আসিফের
-61303c-480x270.webp)
মিরপুরে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নেতৃত্বে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে রাড্ডা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির নেতৃত্বে—যার স্বামী এই এলাকার কমিশনার ছিলেন একসময়, যার ভাই ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন একসময়; আমরা তাদের সেই সংগ্রামকে সম্মান করি।
“কিন্তু আমরা দেখলাম তার নেতৃত্বে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ, একটা মতন্ত্র কায়েম করা হলো।”
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ভাই প্রয়াত বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তার স্বামী বিএনপি নেতা ও মিরপুরের সাবেক কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাড্ডা এমসিএইচের স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পাঁচ দশক ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা-শিশুদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা জমির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ লেখা সাইনবোর্ডও লাগিয়ে যায়।
রোববার বেলা ১২টার পর আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায় এবং রাড্ডার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় এনসিপির কর্মীরা সেখানে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন, আরেকটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেন এবং একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।
পরিদর্শন শেষে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওষুধ, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখানে আমরা ভেতরে দেখলাম যে, মেডিসিন, ইনজেকশন, ইকুইপমেন্ট—এই জিনিসগুলো পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই যে গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা, এইটা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান?
“আপনারা ধনীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাবাজি করেন। ইসিবিতে আমরা দেখলাম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আপনারা গতকালকে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ চালাইছেন। আপনারা এখানে গরিব বাচ্চাদের টিকাটা পর্যন্ত ছাড়েন নাই।”
বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘মবের বিরুদ্ধে’ দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, “আমাদের লজ্জা হয়। আমরা দেখেছি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পরে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আজ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো’। কিন্তু আমরা কী দেখলাম?
“মবতন্ত্র দিয়ে ঠিক তিনটা জায়গায় দুইদিনের মধ্যে একটা স্বাস্থ্য সেবা ক্লিনিক, একটা স্টুডিও আরেকটা প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করলেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত কারা? আমরা দেখলাম সিসিটিভি ক্যামেরায়—পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে ছিল।”
রাড্ডার ভবন ভাঙতে এক্সকেভেটর ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, কোনো ভবন ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট অনুমতি আছে কি না, তা পুলিশের যাচাই করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে আমি যদি আমার বাড়িও ভাঙতে চাই এক্সকেভেটর দিয়ে; আমার পুলিশের অনুমতি নিতে হয়, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তো পুলিশ এসে এখানে মবতন্ত্র যাতে কায়েম করতে পারে, এটা নিশ্চিত করেছে। যখন ভাঙচুর শুরু হয়েছে, তখন পুলিশ এখান থেকে হেঁটে চলে গেছে।”
ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। আসিফ বলেন, “আমরা এখন এসে দেখলাম—প্রবেশপথে পুলিশ, ভেতরে পুলিশ। ওই যে বাংলা ছায়াছবিতে একটা জিনিস আছে না যে, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।”
রাড্ডা ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা এটার সাথে জড়িত, যারা দায়িত্ব অবহেলা করেছে—সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
“আমরা মনে করি, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এই ঘটনা বিএনপির এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ এবং সংঘটিত একটা অপরাধ।”
দ্রুত বিচার ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ও দায় এড়াতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, “যদি আপনারা কোনো ধরনের বিচার এবং ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে না নেন, তাহলে আমরা মনে করব—এটা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই অবগত আছেন এবং সবাই এটার ভাগ পাবেন।”
দুটি ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, “উভয় জায়গায় ইভালুয়েট করে প্রপারলি যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
“এই বিল্ডিংটা আবার পুনর্নির্মাণ করে এখানে আবার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।”
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি।

















-c902ac-256x144.webp)