সংসদে ‘যৌক্তিক’ বিরোধী দল হতে চায় জামায়াত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১৯: ১৮
জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে ‘গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক’ বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের করতে চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত সংসদে ‘বগলদাবা’ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে না, আবার জনস্বার্থবিরোধী আচরণও করবে না।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠিয়েছে। তাই তারা যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবেন।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলেরই কথা বলার অধিকার রয়েছে। তবে কে কতটা সুযোগ পাবে, সেটি স্পিকারের এখতিয়ার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। আর ২১২ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদে কার্যকর বিরোধী দল ছিল না। তাঁর দাবি, সে সময় সরকারি দলই অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতা নির্ধারণও সরকার-নির্ভর ছিল।

একই সঙ্গে তিনি অতীতের আরেক ধরনের বিরোধী রাজনীতির সমালোচনা করেন। তার মতে, সংসদে হট্টগোল, ফাইল ছোড়াছুড়ি কিংবা দীর্ঘদিন বর্জনের রাজনীতি থেকে জামায়াত ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, অকারণে ওয়াকআউট বা উত্তেজনাকর আচরণে বিশ্বাস করে না জামায়াত। তবে কোনো যৌক্তিক দাবি উপেক্ষিত হলে তারা প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করতে পারে, কিন্তু সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

সংসদে দেওয়া বিভিন্ন নোটিসের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম নোটিশ ছিল গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে অধিবেশন আহ্বানের দাবি নিয়ে। এরপর ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং প্রবাসীদের সমস্যা নিয়েও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই এখন জরুরি। এ জন্য সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ভারত সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যুতেও সংসদে আলোচনা চেয়েছিল জামায়াত। তবে বিষয়টি সংবেদনশীল উল্লেখ করে নোটিস প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরে সেটি কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংস্কার, শুধুমাত্র সংশোধন নয়। এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠন হলে জামায়াত তা বিবেচনা করবে।

মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি/আরআইআর

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

প্রস্তাবিত বাজেট কথার ফুলঝুরি, রাজনৈতিক চমকবাজি: জাসদ

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।

৫ দিন আগে

বড় ও ফাঁপা বাজেট, বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি

এক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনেক বড় অঙ্কের, কিন্তু একই সঙ্গে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসার বা ফাঁকা বলে প্রতিভাত হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কোনো আশাবাদ প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যাচ্ছে না। এই বাজেট বৈষম্য বৃদ্ধি করবে।

৫ দিন আগে

বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি, জাতি হতাশ: জামায়াত

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এই বাজেট দেশবাসীকে চরমভাবে হতাশ করেছে।

৫ দিন আগে

এ বাজেট চানাচুরের মতো— খেতে ভালো, পুষ্টিগুণ নেই: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সুন্দর কথা বলছে। তবে বাজেট নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখানো হচ্ছে। আসলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট। এই বাজেট চানাচুরের মতো— খেতে ভালো লাগবে, কিন্তু পুষ্টিগুণ নেই।

৫ দিন আগে