
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

গুমের ৬২ দিনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখ বেঁধে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া, সেখানে মানসিক রোগী ভেবে হাসপাতালে রাখা এবং পরে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে প্রথম যোগাযোগের ঘটনা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১১ বছর আগের সেই ঘটনা মনে হলে এখনো তার ‘মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ’ হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে নিজের গুমের ঘটনা স্মরণ করেন তিনি।
৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘১১ বছর আগের ঘটনা… স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করে; এখনও স্মরণে এলে শরীরে শিহরণ জাগায়। চোখ বাঁধা কালো কাপড়ে, হাত বাঁধা স্টিলের হ্যান্ডকাফে। এক নয়, দুই নয়, দশ নয়, টানা ৩২ ঘণ্টা এভাবে কেটেছে আমার। সেই স্মৃতি এখনও আমাকে কষ্ট দেয়, মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।’
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তখন ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।
৬১ দিন ছোট কক্ষে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে একটি ছোট কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। কক্ষটি ছিল প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুট। সেখানে একটি পানির কল ছিল। শৌচকার্যের জন্য ছিল চিকন একটি ছিদ্র, যা নালার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তার ধারণা। সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত।
তিনি বলেন, ‘মেঝেতে একটি কম্বল বিছানো ছিল। সেটিই ছিল শোবার জায়গা। একটি বালিশও ছিল। স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর কোনো পরিবেশ ছিল না।’
তাকে এক বেলা নাশতা ও দুই বেলা খাবার এবং পানি দেওয়া হতো। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তার হার্টের সমস্যা ছিল বলেও জানান তিনি।
দরজার বাইরে সব সময় একটি বৈদ্যুতিক পাখা চলত জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, দরজার ওপর সামান্য ফাঁকা জায়গা ছিল, সেখান দিয়ে বাতাস আসত। ওই বাতাস না থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হতো বলে মনে করতেন তিনি।
চোখ বেঁধে নেওয়া হয় ভারতে
একদিন খাবার দিতে এসে তার কোনো সাড়া না পেয়ে আটককারীরা দরজা খোলে এবং তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার সময় তার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।
চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়ির দরজা খোলার শব্দ শুনে তিনি বুঝেছিলেন, সেটি মাইক্রোবাসের মতো। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে চলার পর একটি জায়গায় থামানো হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর রাত গভীর হলে আবার গাড়িতে তোলা হয়।
রাস্তার অবস্থা পায়ের স্পর্শ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। পরে জিপের মতো একটি গাড়িতে তাকে নেওয়া হয়। এরপর আরও একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়।
সেখানে কিছু মানুষের কথাবার্তা শুনতে পান তিনি। দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে কথা হয়। একপর্যায়ে এক কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কামরুজ্জামান সাহেবের তো এক্সিকিউশন হয়ে গেছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও ৬১ দিন আটকে থাকার কারণে সালাহউদ্দিনের জানা ছিল না। তার অজ্ঞতায় ওই কর্মকর্তা অবাক হন।
পরে তাকে খাবার দেওয়া হয়। সারা দিন কিছু না খাওয়ায় তিনি খাবার চান। তাকে নুডলস দেওয়া হয়। তখনো তার হাত বাঁধা ছিল। হাত বাঁধা অবস্থায় চামচ দিয়ে তাকে খেতে হয়। প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে অনেক কষ্টে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো।
আরও কয়েক ঘণ্টা সেখানে রাখার পর তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তবে যারা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা নিজেদের চোখ আবার ঢেকে রাখেন, যাতে তিনি তাদের চিনতে না পারেন।
শিলংয়ে মানসিক রোগী ভেবে হাসপাতালে
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘পরে আমাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তখন সূর্য ওঠার সময়। পাশে বড় একটি ফাঁকা জায়গা ছিল। সেখানেই আমাকে রেখে যাওয়া হয়।’
সেখানে কয়েকজন মানুষকে দেখে তাদের কাছে জায়গাটির পরিচয় জানতে চান তিনি। হিন্দি ও ইংরেজিতে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে দেখে তারা প্রথমে মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগল মনে করেছিলেন।
পরে পাশের একটি বিলবোর্ড দেখে সালাহউদ্দিন বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আছেন। স্থানীয় লোকজনকে পুলিশে খবর দেওয়ার অনুরোধ করলে কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
পুলিশ তাকে একটি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে একটি বেসামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসককে নিজের পরিচয় ও টেলিফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।
কিন্তু পুলিশ তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবেছিল। এরপর তাকে একটি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। সালাহউদ্দিন তাকেও নিজের টেলিফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। তার ছবিও তোলা হয়। পরে সেই ছবি প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
চিকিৎসককে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি মানসিক রোগী নন। কিন্তু তাকে ওই হাসপাতালেই রাখা হয়। মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাকেও রাখা হয়েছিল। তাকে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হয়। চশমা পরতেও দেওয়া হয়নি। তার চুল ও দাড়ি কেটে দেওয়া হয়।
স্ত্রীর ফোনে প্রথম যোগাযোগ
একসময় তার মনে হয়েছিল, বিদেশের মাটিতে হয়তো পাগল অবস্থায় মারা যাবেন। তার পরিবার হয়তো তার কবরও দেখতে পারবে না। ওই অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন।
একদিন হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তার জন্য একটি টেলিফোন এসেছে। ফোনটি করেছিলেন তার স্ত্রী। ফোনে কথা বলার সময় সালাহউদ্দিন বুঝতে পারেন, পরিবার তার অবস্থান জানতে পেরেছে।
এই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, মুঠোফোনে কথা বলার সময় তার স্ত্রীও হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন।
এরপর তাকে সেখান থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা শুরু হয়। পুলিশ ও চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেন। স্থানীয় একটি সংগঠন তাকে একটি জামা ও একটি চাদর দেয়। এরপর তাকে সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সময় দূর থেকে একটি টেলিভিশন ক্যামেরা দেখতে পান তিনি। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ পরে সেই ভিডিও বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দেশের মানুষ ভিডিওটি দেখতে পান।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরা
এরপর সালাহউদ্দিনকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখায় ভারতীয় পুলিশ।
পরে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত সালাহউদ্দিন আহমদকে খালাস দেন। এর বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে।
পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলং জজ আদালতও তাকে খালাস দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে নিজের গুম ও উদ্ধারের পুরো ঘটনা স্মৃতিচারণা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

গুমের ৬২ দিনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখ বেঁধে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া, সেখানে মানসিক রোগী ভেবে হাসপাতালে রাখা এবং পরে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে প্রথম যোগাযোগের ঘটনা তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১১ বছর আগের সেই ঘটনা মনে হলে এখনো তার ‘মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ’ হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে নিজের গুমের ঘটনা স্মরণ করেন তিনি।
৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘১১ বছর আগের ঘটনা… স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করে; এখনও স্মরণে এলে শরীরে শিহরণ জাগায়। চোখ বাঁধা কালো কাপড়ে, হাত বাঁধা স্টিলের হ্যান্ডকাফে। এক নয়, দুই নয়, দশ নয়, টানা ৩২ ঘণ্টা এভাবে কেটেছে আমার। সেই স্মৃতি এখনও আমাকে কষ্ট দেয়, মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।’
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। তখন ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।
৬১ দিন ছোট কক্ষে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাকে একটি ছোট কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। কক্ষটি ছিল প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুট। সেখানে একটি পানির কল ছিল। শৌচকার্যের জন্য ছিল চিকন একটি ছিদ্র, যা নালার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তার ধারণা। সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত।
তিনি বলেন, ‘মেঝেতে একটি কম্বল বিছানো ছিল। সেটিই ছিল শোবার জায়গা। একটি বালিশও ছিল। স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর কোনো পরিবেশ ছিল না।’
তাকে এক বেলা নাশতা ও দুই বেলা খাবার এবং পানি দেওয়া হতো। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তার হার্টের সমস্যা ছিল বলেও জানান তিনি।
দরজার বাইরে সব সময় একটি বৈদ্যুতিক পাখা চলত জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, দরজার ওপর সামান্য ফাঁকা জায়গা ছিল, সেখান দিয়ে বাতাস আসত। ওই বাতাস না থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার মতো অবস্থা হতো বলে মনে করতেন তিনি।
চোখ বেঁধে নেওয়া হয় ভারতে
একদিন খাবার দিতে এসে তার কোনো সাড়া না পেয়ে আটককারীরা দরজা খোলে এবং তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়ার সময় তার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।
চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়ির দরজা খোলার শব্দ শুনে তিনি বুঝেছিলেন, সেটি মাইক্রোবাসের মতো। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে চলার পর একটি জায়গায় থামানো হয়। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর রাত গভীর হলে আবার গাড়িতে তোলা হয়।
রাস্তার অবস্থা পায়ের স্পর্শ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। পরে জিপের মতো একটি গাড়িতে তাকে নেওয়া হয়। এরপর আরও একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়।
সেখানে কিছু মানুষের কথাবার্তা শুনতে পান তিনি। দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে কথা হয়। একপর্যায়ে এক কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কামরুজ্জামান সাহেবের তো এক্সিকিউশন হয়ে গেছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও ৬১ দিন আটকে থাকার কারণে সালাহউদ্দিনের জানা ছিল না। তার অজ্ঞতায় ওই কর্মকর্তা অবাক হন।
পরে তাকে খাবার দেওয়া হয়। সারা দিন কিছু না খাওয়ায় তিনি খাবার চান। তাকে নুডলস দেওয়া হয়। তখনো তার হাত বাঁধা ছিল। হাত বাঁধা অবস্থায় চামচ দিয়ে তাকে খেতে হয়। প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে অনেক কষ্টে তাকে নিয়ে যাওয়া হতো।
আরও কয়েক ঘণ্টা সেখানে রাখার পর তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তবে যারা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা নিজেদের চোখ আবার ঢেকে রাখেন, যাতে তিনি তাদের চিনতে না পারেন।
শিলংয়ে মানসিক রোগী ভেবে হাসপাতালে
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘পরে আমাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। তখন সূর্য ওঠার সময়। পাশে বড় একটি ফাঁকা জায়গা ছিল। সেখানেই আমাকে রেখে যাওয়া হয়।’
সেখানে কয়েকজন মানুষকে দেখে তাদের কাছে জায়গাটির পরিচয় জানতে চান তিনি। হিন্দি ও ইংরেজিতে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে দেখে তারা প্রথমে মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগল মনে করেছিলেন।
পরে পাশের একটি বিলবোর্ড দেখে সালাহউদ্দিন বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আছেন। স্থানীয় লোকজনকে পুলিশে খবর দেওয়ার অনুরোধ করলে কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
পুলিশ তাকে একটি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে একটি বেসামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসককে নিজের পরিচয় ও টেলিফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।
কিন্তু পুলিশ তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবেছিল। এরপর তাকে একটি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। সালাহউদ্দিন তাকেও নিজের টেলিফোন নম্বর দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। তার ছবিও তোলা হয়। পরে সেই ছবি প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
চিকিৎসককে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি মানসিক রোগী নন। কিন্তু তাকে ওই হাসপাতালেই রাখা হয়। মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাকেও রাখা হয়েছিল। তাকে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হয়। চশমা পরতেও দেওয়া হয়নি। তার চুল ও দাড়ি কেটে দেওয়া হয়।
স্ত্রীর ফোনে প্রথম যোগাযোগ
একসময় তার মনে হয়েছিল, বিদেশের মাটিতে হয়তো পাগল অবস্থায় মারা যাবেন। তার পরিবার হয়তো তার কবরও দেখতে পারবে না। ওই অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন।
একদিন হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তার জন্য একটি টেলিফোন এসেছে। ফোনটি করেছিলেন তার স্ত্রী। ফোনে কথা বলার সময় সালাহউদ্দিন বুঝতে পারেন, পরিবার তার অবস্থান জানতে পেরেছে।
এই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, মুঠোফোনে কথা বলার সময় তার স্ত্রীও হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন।
এরপর তাকে সেখান থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা শুরু হয়। পুলিশ ও চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেন। স্থানীয় একটি সংগঠন তাকে একটি জামা ও একটি চাদর দেয়। এরপর তাকে সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সময় দূর থেকে একটি টেলিভিশন ক্যামেরা দেখতে পান তিনি। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ পরে সেই ভিডিও বাংলাদেশে পাঠানো হয়। দেশের মানুষ ভিডিওটি দেখতে পান।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরা
এরপর সালাহউদ্দিনকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখায় ভারতীয় পুলিশ।
পরে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত সালাহউদ্দিন আহমদকে খালাস দেন। এর বিরুদ্ধে ভারত সরকার আপিল করে।
পরে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলং জজ আদালতও তাকে খালাস দেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে নিজের গুম ও উদ্ধারের পুরো ঘটনা স্মৃতিচারণা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ছয় মাস বয়সী সরকারের সামনে দেখছেন পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ— জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, স্থবির অর্থনীতি আর বাড়তে থাকা বেকারত্ব, দলীয়ভাবে মাঠ পর্যায়ের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভেঙে পড়া পুলিশ-প্রশাসনিক কাঠামো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাঁচটি
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে এক সাংবাদিক ভারতের ভাবনা জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’
১ দিন আগে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনার এই দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।" বার্তায় তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত সমৃদ্ধি
১ দিন আগে