
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
গুমের বিচার ও প্রতিকারের জন্য নতুন আইন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু কমিশন গঠন করে গুমের সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যাতে আদালতে যেতে পারেন এবং বিচার ও প্রতিকার পান, সে লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে।
আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি ও তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যাতে সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার চালাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ বা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়া যাবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে। শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা ও সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব বাহিনীতে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মিরাজের ঘটনায় বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার দাবি
অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে গুম-সংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করেছেন।
সব মিলিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অথচ এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য এবং স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নূর খান।
অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন গুমের শিকার ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে থাকেন। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়।
মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্তের দাবি জানান তিনি। মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনেরও দাবি জানান নূর খান।
আইনের তিন ধারা বাদ দেওয়ার দাবি
সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটালেও এখন সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী ও মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।
প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির চির অবসান ঘটবে।
সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ধারা ১৪, ১৯ ও ২১ স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান আহমাদ বিন কাসেম।
পরিবারগুলোর হয়রানির অভিযোগ
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি, শিক্ষার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি ব্যাংক হিসাবও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেন সারা হোসেন।
নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানতে চান। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা এখন কোথায়, কেমন আছেন— কিছুই তারা জানেন না।
দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত জানিয়ে আদিবা বলেন, আর এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানসহ গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
গুমের বিচার ও প্রতিকারের জন্য নতুন আইন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু কমিশন গঠন করে গুমের সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যাতে আদালতে যেতে পারেন এবং বিচার ও প্রতিকার পান, সে লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে।
আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি ও তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যাতে সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার চালাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ বা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়া যাবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে। শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা ও সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব বাহিনীতে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মিরাজের ঘটনায় বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার দাবি
অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে গুম-সংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করেছেন।
সব মিলিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। অথচ এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য এবং স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নূর খান।
অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন গুমের শিকার ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে থাকেন। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।
নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়।
মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্তের দাবি জানান তিনি। মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনেরও দাবি জানান নূর খান।
আইনের তিন ধারা বাদ দেওয়ার দাবি
সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটালেও এখন সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী ও মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।
প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির চির অবসান ঘটবে।
সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ধারা ১৪, ১৯ ও ২১ স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান আহমাদ বিন কাসেম।
পরিবারগুলোর হয়রানির অভিযোগ
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি, শিক্ষার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি ব্যাংক হিসাবও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেন সারা হোসেন।
নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তারা জানতে চান। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা এখন কোথায়, কেমন আছেন— কিছুই তারা জানেন না।
দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত জানিয়ে আদিবা বলেন, আর এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানসহ গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ।

এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ছয় মাস বয়সী সরকারের সামনে দেখছেন পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ— জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, স্থবির অর্থনীতি আর বাড়তে থাকা বেকারত্ব, দলীয়ভাবে মাঠ পর্যায়ের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভেঙে পড়া পুলিশ-প্রশাসনিক কাঠামো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাঁচটি
১৮ ঘণ্টা আগে
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে এক সাংবাদিক ভারতের ভাবনা জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’
১ দিন আগে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনার এই দায়িত্ব গ্রহণ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।" বার্তায় তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত সমৃদ্ধি
১ দিন আগে