ট্রাম্পকে এল-সায়েদের বার্তা— “আমাকে ‘সেনেটর’ বলে ডাকতে পারো’’
-87cbf4-480x270.webp)
মিশিগানের নতুন নির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ডোনাল্ড, দেখো, আমি জানি তুমি আমার নাম নিয়ে স্ট্রাগল করেছ। জানুয়ারিতে জেডি ভ্যান্স আমাকে শপথ করানোর পর তুমি শুধু ‘সেনেটর’ বলে ডাকতে পারো।” এই কথাটি তার প্রচারণার সময় বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখন জয়ের পর নতুন মাত্রা পেয়েছে। নাম নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস ও আক্রমণের বিপরীতে এল-সায়েদের এই জবাব এখন তার বিজয়ের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়ে এল-সায়েদ মার্কিন সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। কিন্তু এই জয় সহজ ছিল না। প্রচারণা জুড়ে তিনি তীব্র বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। ট্রাম্প তার নাম নিয়ে বারবার উপহাস করেছেন, তাকে “জিহাদি পাগল” বলেছেন এবং বলেছেন সিনেটে তাকে প্রবেশ করাতে “বিশেষ মেটাল ডিটেক্টর” লাগবে। এমন পরিস্থিতিতেই এল-সায়েদ নামের ইস্যুটিকেই ঘুরিয়ে ট্রাম্পকে জবাব দিয়েছেন।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ব্রিটিশ টেলিভিশন সাংবাদিক জেমস ম্যাথুজের সঙ্গে তার উত্তপ্ত সংঘাতও ভাইরাল হয়। স্কাই নিউজের সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, এল-সায়েদ রেগে গিয়ে বলেন, “তোমার সঙ্গে কথা বলার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাজ্যে আমার কত ভোট দরকার? শূন্য। আমি কখনোই যুক্তরাজ্যে নির্বাচন করব না।” এই ক্লিপটি ১৩ মিলিয়নেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। কিন্তু গার্ডিয়ানের পাঠকদের দীর্ঘ স্মৃতি আছে।
২০১০ সালে অক্সফোর্ডের রোডস স্কলার হিসেবে তরুণ এল-সায়েদ গার্ডিয়ানেই এক নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের হাত আমেরিকার চেয়ে উপরের দিকে।” লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো-তে লেবার পার্টির হাসটিংসে যোগ দিয়ে তিনি মুগ্ধ হন। তিনি লিখেছিলেন, আমেরিকান হিসেবে তিনি স্কুলে শিখেছেন যে আমেরিকান গণতন্ত্রই বিশ্বের সেরা। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় তিনি এমন এক সাম্প্রদায়িক আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুষ্ঠান দেখেছেন, যা আমেরিকার কোনো ফেডারেল নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানে এখনো দেখেননি। ছোট নির্বাচনী এলাকা, একাধিক দলের প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় বিষয়ে মনোযোগ—এসব তাকে ঈর্ষান্বিত করেছিল। তিনি আরও লিখেছিলেন, আরব-আমেরিকান হিসেবে তার জীবদ্দশায় কোনো আরব-আমেরিকান প্রার্থীকে জাতীয় পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নগণ্য। কিন্তু ইতিহাস তাকে ভুল প্রমাণ করেছে। এবার তিনি নিজেই নিজের জন্য ভোট দিয়েছেন এবং জিতেছেন।
২০১১ সালে পাবলিক হেলথে ডক্টরেট শেষ করে তিনি আমেরিকায় ফিরে আসেন। অক্সফোর্ডে ল্যাক্রোস দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। গার্ডিয়ানে তার শেষ লেখাটি ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি আরব বসন্ত নিয়ে বারাক ওবামাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি লিখেছিলেন, ওবামাকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করে তিনি দেশের সেবা করেছেন বলে বিশ্বাস করতেন।
এখন জয়ের পর এল-সায়েদ নামের ইস্যুটিকেই কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে জবাব দিয়েছেন। “নাম নিয়ে স্ট্রাগল”— এই কথাটি এখন তার বিজয়ের অন্যতম প্রধান বার্তা হয়ে উঠেছে। তরুণ অক্সফোর্ড ছাত্র থেকে মার্কিন সিনেটর—এল-সায়েদের এই যাত্রা একদিকে ব্যক্তিগত রূপান্তরের গল্প, অন্যদিকে আমেরিকান রাজনীতির পরিবর্তনশীল মুখও তুলে ধরে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান







-b3e939-256x144.webp)





