রাশিয়া-ইউক্রেনে পালটাপালটি হামলা, আবুধাবিতে নতুন বৈঠকের প্রস্তুতি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পালটা ড্রোন ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ব্রাসেলসে দুই দিনের আলোচনায় ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, অর্থায়ন ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি দুই দেশের হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত নেই।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় যুদ্ধের পর ইউক্রেনের পুনর্গঠন, ২০২৭ সালের অর্থায়ন এবং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভও বৈঠকে অংশ নেন।
এরপর আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হওয়ার কথা। ক্রেমলিন এরই মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের। আলোচনায় যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানবিক বিষয় এবং সংঘাতের অবসানের পথ খোঁজার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির চারজন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রায় ৫০০ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় একজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবরও পাওয়া গেছে। অধিকৃত লুহানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় একটি বাসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে রুশপন্থি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
এদিকে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রুশ বোমা হামলায় একটি স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওই হামলায় ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেনকে ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪৪০ কোটি ইউরো দিয়েছে। এই অর্থ প্রতিরক্ষা ও সরকারি সেবা চালু রাখতে সহায়তা করবে।
যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে নতুন বৈঠককে সংঘাত অবসানের আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভূখণ্ড, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের অবস্থানের ব্যবধান এখনো বড়। ফলে আবুধাবির আলোচনায় অগ্রগতি হলেও দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা নেই।














