মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দুষছেন ভ্যান্স, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি সরাসরিই বলেছেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।’

দ্য গার্ডিয়ান ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভ্যান্স কার্যত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিরই সমালোচনা করেছেন। ভ্যান্স লিখেছেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে তা বলেছেন।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে এর বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও মেনে নেওয়া যায়, তাহলে তার উচিত যুক্তি দিয়ে তা ব্যাখ্যা করা।

ভ্যান্সের মতে, যুদ্ধের মূল্য নিয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু পরাজয়ের কারণ নিয়ে সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে এখান থেকেই।

নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটে তারা অন্তত সাতটি আসন বাড়িয়ে ৫৪টি আসন পেয়েছে, বিপরীতে রিপাবলিকানদের আসন ৪৪। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন অন্তত ২৩১টি, রিপাবলিকানদের ১৪১।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কিছু আসনের ফল চূড়ান্ত হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু ফলাফল চূড়ান্ত হয়েছে তাতে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের ভূমিধস জয় ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, নিয়োগ অনুমোদন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ কঠিন দেবে।

ভ্যান্সের মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে এ কারণে যে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। যুদ্ধের বিষয়ে তার সংশয় ছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বুধবারের পোস্টে তিনি যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে আগে দেওয়া নিজের পরামর্শকে ‘যথার্থ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে ভ্যান্সের এই যুদ্ধবিরোধী বা যুদ্ধ নিয়ে সংশয়পূর্ণ মনোভাবের ভিন্ন ব্যাখ্যাও এসেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ভ্যান্স এর মাধ্যমে যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতে চাইছেন— এমন সম্ভাবনাও কেউ কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ভ্যান্স প্রকারান্তরে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জানালেও ট্রাম্প যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতির একটি কারণ ছিল। তবে একে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখেননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সঠিক কাজটিই করেছি। আবারও একই কাজ করতাম।’

নির্বাচনের পর যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতর এই প্রকাশ্য মতপার্থক্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনা চলছে। যুদ্ধের বিরূপ নির্বাচনি প্রভাব ও কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad