মিশিগান জয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম আমেরিকান হতে যাচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোট গণনার একপর্যায়ে দুই প্রার্থীর ব্যবধান দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এল-সাইয়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেট্রয়েট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের এই লড়াইকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বিরোধের প্রতিফলনও ঘটেছে এই নির্বাচনে।
৪২ বছর বয়সী এল-সাইয়েদ মিশিগানের অ্যান আরবারের বাসিন্দা। তিনি ডেট্রয়েট শহর ও ওয়েন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্কিন রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব এবং সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সমালোচক তিনি। নির্বাচনী প্রচারে শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতা বাড়ানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ চালুর পক্ষে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স হোয়াইট লেক টাউনশিপের বাসিন্দা এবং সাবেক কংগ্রেস সদস্য। তিনি সাত মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের দাম কমানো, অঙ্গরাজ্যে উৎপাদনশিল্প ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষাকে ‘মতাদর্শিক দীক্ষাদান’ থেকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
২০১৫ সাল থেকে মিশিগানের এই সিনেট আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসা ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স এবার নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন। তার অবসরের কারণে আসনটি শূন্য হয়। রজার্স এর আগে ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে সময় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে হেরে যান তিনি।
এল-সাইয়েদের জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মিশিগানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও প্রগতিশীল প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেন, এই নির্বাচনের ফলকে তার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন দলটির ওই অংশের সমর্থকেরা।
ধর্মীয় পরিচয় ও আরবি নামের কারণে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হবে—রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন এল-সাইয়েদ। নির্বাচনের আগের দিন ডেট্রয়েটের ম্যাজেস্টিক থিয়েটারে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘তারা যখন বলে আমি জিততে পারব না, তখন তারা আসলে আমাকে নিয়ে কথা বলছে না, আপনাদের নিয়ে কথা বলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মিশিগানকে চিনি। আমি জানি, এই অঙ্গরাজ্যের মানুষ কতটা উদার হৃদয়ের, মুক্তমনা, আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমী।’
অন্যদিকে, রজার্স জয়ী হলে গত ৫০ বছরে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়া দ্বিতীয় রিপাবলিকান হতেন। অঙ্গরাজ্যটি থেকে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে রিপাবলিকান স্পেন্সার আব্রাহাম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি ডেমোক্র্যাট ডেবি স্ট্যাবেনোর কাছে পরাজিত হন।
নির্বাচনের আগের দিন রচেস্টার হিলসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের এক সমাবেশে রজার্স বলেছিলেন, ‘এই লড়াই বামপন্থা বা ডানপন্থার চেয়েও বড়। এটি নির্ধারণ করবে আমেরিকায় আমরা কারা এবং আমাদের সন্তানদের জন্য আমেরিকাকে কেমন দেখতে চাই।’



-31b3e3.jpg)







-31b3e3-256x144.webp)





