মাইক্রোসফট-অ্যাডোবিসহ ৭ প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কড়াকড়ি শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি ও মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি ও ভারতের বড় কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির স্থায়ী শ্রম সনদ (পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম, পার্ম) আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ ৯টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং বৃহস্পতিবার জানান, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির পাশাপাশি কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে নতুন কোনো ‘পার্ম’ আবেদন গ্রহণ করা হবে না। শুধু তাই নয়, আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পার্ম বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ বিদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন। এতে কোম্পানিকে প্রমাণ করতে হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিশেষ করে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে পার্মের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তার অভিযোগ, গত বছর কোম্পানিটি ছয় হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করলেও ছয় হাজার ৩০০ এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় তিন হাজার গ্রিন কার্ড সুবিধা নিয়েছে। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের মতো এত বেশি ‘সিস্টেমের অপব্যবহার’ করেনি।
মাইক্রোসফট অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের করা এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অবস্থান পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। একই সঙ্গে এইচ-১বি কর্মীদের একই ধরনের কাজে থাকা অন্য কর্মীদের সমান বেতন দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শ্রমমন্ত্রী সোন্ডারলিংয়ের হিসাব বলছে, অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ পেয়েছে তারা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভ্যান্স জানান, হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারীরা বিদেশি প্রভাব, অনিয়মিত আর্থিক সম্পর্ক এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন মজুরি বা গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও দেখবেন।
এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষ বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর নীতির নতুন বিস্তার। গত বছর প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ নামে এইচ-১বি কর্মসূচিতে নজরদারি বাড়ায়। বিদেশ থেকে নতুন এইচ-১বি কর্মী আনার ক্ষেত্রে এককালীন এক লাখ ডলার ফিও আরোপ করা হয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি সীমিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
















