
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৬ ঘণ্টার মাথায় সে পরিকল্পনা স্থগিতও ঘোষণা করেছেন তিনি। আচমকা সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রত্যাহারে ট্রাম্পের প্রবণতা নতুন নয়। তবে এবার জানা গেল, নিছক খেয়ালখুশিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেননি তিনি। বরং উপসাগরীয় মিত্রদেশ, বিশেষ করে সৌদি আরবের চাপেই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করার পর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। সে কারণেই ট্রাম্পের এ পিছু হটা।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেন, রোববার বিকেলে সামাজিকমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা দিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের বিস্মিত করেন ট্রাম্প। এ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৌদি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয়, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন কিংবা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপেও এ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আকাশপথে পুনরায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন।
কাতার-ওমানও ছিল বিস্মিত
শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয় আরও কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মিত্রও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণায় বিস্মিত হয়। পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এক সৌদি সূত্র এনবিসি নিউজকে জানায়, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও যোগাযোগের মধ্যে ছিলেন।
সৌদি নেতৃত্ব পরিকল্পনাটি আগে থেকে জানত কি না— এমন প্রশ্নে ওই সূত্র বলে, ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটছিল যে বিষয়টিকে সরলভাবে দেখা কঠিন। একই সঙ্গে তারা জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেন, আঞ্চলিক মিত্রদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক জানান, ট্রাম্প ঘোষণার পরই যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দিয়েছে, পরে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। তবে আমরা বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ ছিলাম না।
কী ছিল ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’
গত রোববার ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভেঙে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এ পরিকল্পনার পক্ষে বক্তব্য দিলেও শুরু হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প হঠাৎ এটি স্থগিত করেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অভিযান চলাকালে প্রণালি অতিক্রমের জন্য অতিরিক্ত কয়েকটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হচ্ছিল। এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’র অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে।
ট্রাম্প পরে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, যুদ্ধের অবসানসংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত ও সই হয় কি না, তা দেখার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে।
সৌদি ঘাঁটি ও আকাশসীমা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সৌদির প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে। ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সেখান থেকে বিমান পরিচালনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উড্ডয়ন করা বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে সীমান্তবর্তী আকাশসীমা ব্যবহারে আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথই নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’ জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে যুদ্ধবিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ছাতার মতো কাজ করত।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিকে এবিও ( অ্যাকসেস, বেজিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট) নামে উল্লেখ করে থাকে। যুদ্ধবিমান, ট্যাংকার ও সহায়ক বিমান পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের অনুমতি অপরিহার্য। সৌদি আরব ও জর্ডান বিমান মোতায়েনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কুয়েত আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য এবং ওমান আকাশপথ ও নৌ রসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কাতারের আমিরের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়ে কথা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আমির উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিকল্পনাটি স্থগিত হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখনো শক্তিশালী রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময়কার তুলনায় বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। সেখানে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রয়েছে এবং পেন্টাগন অতিরিক্ত রসদ, সহায়তা ও অস্ত্রভাণ্ডার সরবরাহ করেছে।
‘এপিক ফিউরি’ থেকে আলাদা ছিল অভিযান
‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’র আওতায় মার্কিন সামরিক নজরদারি, অগ্নিশক্তি ও সামরিক সদস্যদের জাহাজে মোতায়েন করা হয়েছিল, যেন পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। এ সময় ইরানি বাহিনী ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা ও হুমকি অব্যাহত রেখেছিল।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেন, এই অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলা অভিযান থেকে আলাদা ছিল।
আলোচনায় অগ্রগতি, হুমকিও অব্যাহত
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চূড়ান্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ইসনাকে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। মূল্যায়ন শেষে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করে।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, যুদ্ধ শেষ হতে পারে যদি ইরান সম্মত হওয়া বিষয়গুলো মেনে নেয়। পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প
নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যুদ্ধ শেষ হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। আর যদি না হয়, তাহলে আবারও তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাতে হবে।
একাধিক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা তাকে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতাও ধ্বংস করে “কাজ শেষ” করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, চীন সফরের আগেই এই সামরিক অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব।
চীনের অবস্থান, ইরানের হুঁশিয়ারি
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, যুদ্ধ যত দ্রুতসম্ভব শেষ হওয়া জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি জরুরি। আবার সংঘাত শুরু হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সংলাপ ও আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইরানি পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবিরাহিম রেজায়ি সামাজিক মাধ্যমে নতুন প্রস্তাবকে বাস্তবতায় রূপ না নেওয়া পর্যন্ত কেবল ইচ্ছার তালিকা বলে মন্তব্য করেন।
রেজায়ি লিখেছন, আমেরিকানরা মুখোমুখি আলোচনায় যা অর্জন করতে পারেনি, ব্যর্থ যুদ্ধের মাধ্যমে তা পাবে না। ইরানের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। তারা আত্মসমর্পণ না করলে বা প্রয়োজনীয় ছাড় না দিলে, কিংবা তাদের দুষ্ট মিত্ররা কোনো দুষ্টুমি করলে আমরা কঠোর ও অনুতাপ তৈরির মতো জবাব দেবো।
তবে এক জর্ডানীয় কর্মকর্তা এনবিসিকে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের অর্থনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, তারা বেতন পর্যন্ত দিতে পারছে না।

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৬ ঘণ্টার মাথায় সে পরিকল্পনা স্থগিতও ঘোষণা করেছেন তিনি। আচমকা সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রত্যাহারে ট্রাম্পের প্রবণতা নতুন নয়। তবে এবার জানা গেল, নিছক খেয়ালখুশিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেননি তিনি। বরং উপসাগরীয় মিত্রদেশ, বিশেষ করে সৌদি আরবের চাপেই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করার পর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। সে কারণেই ট্রাম্পের এ পিছু হটা।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেন, রোববার বিকেলে সামাজিকমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা দিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের বিস্মিত করেন ট্রাম্প। এ পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৌদি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয়, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন কিংবা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপেও এ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আকাশপথে পুনরায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন।
কাতার-ওমানও ছিল বিস্মিত
শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয় আরও কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মিত্রও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণায় বিস্মিত হয়। পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এক সৌদি সূত্র এনবিসি নিউজকে জানায়, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। একই সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও যোগাযোগের মধ্যে ছিলেন।
সৌদি নেতৃত্ব পরিকল্পনাটি আগে থেকে জানত কি না— এমন প্রশ্নে ওই সূত্র বলে, ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটছিল যে বিষয়টিকে সরলভাবে দেখা কঠিন। একই সঙ্গে তারা জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা অবশ্য দাবি করেন, আঞ্চলিক মিত্রদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক জানান, ট্রাম্প ঘোষণার পরই যুক্তরাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দিয়েছে, পরে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। তবে আমরা বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ ছিলাম না।
কী ছিল ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’
গত রোববার ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভেঙে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এ পরিকল্পনার পক্ষে বক্তব্য দিলেও শুরু হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প হঠাৎ এটি স্থগিত করেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অভিযান চলাকালে প্রণালি অতিক্রমের জন্য অতিরিক্ত কয়েকটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হচ্ছিল। এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’র অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে।
ট্রাম্প পরে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, যুদ্ধের অবসানসংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত ও সই হয় কি না, তা দেখার জন্য ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে।
সৌদি ঘাঁটি ও আকাশসীমা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সৌদির প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে। ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সেখান থেকে বিমান পরিচালনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে উড্ডয়ন করা বিমানকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে সীমান্তবর্তী আকাশসীমা ব্যবহারে আঞ্চলিক মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথই নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’ জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে যুদ্ধবিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ছাতার মতো কাজ করত।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিকে এবিও ( অ্যাকসেস, বেজিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট) নামে উল্লেখ করে থাকে। যুদ্ধবিমান, ট্যাংকার ও সহায়ক বিমান পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের অনুমতি অপরিহার্য। সৌদি আরব ও জর্ডান বিমান মোতায়েনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কুয়েত আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য এবং ওমান আকাশপথ ও নৌ রসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কাতারের আমিরের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়ে কথা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আমির উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিকল্পনাটি স্থগিত হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখনো শক্তিশালী রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময়কার তুলনায় বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। সেখানে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন রয়েছে এবং পেন্টাগন অতিরিক্ত রসদ, সহায়তা ও অস্ত্রভাণ্ডার সরবরাহ করেছে।
‘এপিক ফিউরি’ থেকে আলাদা ছিল অভিযান
‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’র আওতায় মার্কিন সামরিক নজরদারি, অগ্নিশক্তি ও সামরিক সদস্যদের জাহাজে মোতায়েন করা হয়েছিল, যেন পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। এ সময় ইরানি বাহিনী ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা ও হুমকি অব্যাহত রেখেছিল।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলেন, এই অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলা অভিযান থেকে আলাদা ছিল।
আলোচনায় অগ্রগতি, হুমকিও অব্যাহত
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চূড়ান্ত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ইসনাকে বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। মূল্যায়ন শেষে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করে।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, যুদ্ধ শেষ হতে পারে যদি ইরান সম্মত হওয়া বিষয়গুলো মেনে নেয়। পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প
নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যুদ্ধ শেষ হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। আর যদি না হয়, তাহলে আবারও তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাতে হবে।
একাধিক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা তাকে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতাও ধ্বংস করে “কাজ শেষ” করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, চীন সফরের আগেই এই সামরিক অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব।
চীনের অবস্থান, ইরানের হুঁশিয়ারি
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, যুদ্ধ যত দ্রুতসম্ভব শেষ হওয়া জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি জরুরি। আবার সংঘাত শুরু হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সংলাপ ও আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইরানি পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবিরাহিম রেজায়ি সামাজিক মাধ্যমে নতুন প্রস্তাবকে বাস্তবতায় রূপ না নেওয়া পর্যন্ত কেবল ইচ্ছার তালিকা বলে মন্তব্য করেন।
রেজায়ি লিখেছন, আমেরিকানরা মুখোমুখি আলোচনায় যা অর্জন করতে পারেনি, ব্যর্থ যুদ্ধের মাধ্যমে তা পাবে না। ইরানের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। তারা আত্মসমর্পণ না করলে বা প্রয়োজনীয় ছাড় না দিলে, কিংবা তাদের দুষ্ট মিত্ররা কোনো দুষ্টুমি করলে আমরা কঠোর ও অনুতাপ তৈরির মতো জবাব দেবো।
তবে এক জর্ডানীয় কর্মকর্তা এনবিসিকে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের অর্থনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, তারা বেতন পর্যন্ত দিতে পারছে না।

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ‘ইকে ০২২০’ ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ‘ইকে ০৫৮২’ ফ্লাইটে মরদেহ শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
৭ ঘণ্টা আগে
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ডাচ দম্পতি এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন, যেখানে ভাইরাসটি বহনকারী ইঁদুরের একটি প্রজাতির উপস্থিতি ছিল। তবে প্রাদুর্ভাবটি কীভাবে ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘অস্থায়ী সমঝোতা’র দিকে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা সংঘাত থামাতে পারে, তবে দুপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। এতে ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানকে সংলাপ, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন আরাগচি।
১৮ ঘণ্টা আগে