
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘অস্থায়ী সমঝোতা’র দিকে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা সংঘাত থামাতে পারে, তবে দুপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রয়টার্সের খবরে এমনটাই জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। সূত্রগুলোর মতে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পরিবর্তে ‘স্বল্পমেয়াদি’ সমঝোতা স্মারক কেন্দ্রিক পরিকল্পনা, যা দুপক্ষের গভীর মতপার্থক্যকে স্পষ্ট করছে।
আংশিক কোনো চুক্তিও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে— এমন আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্ন কমতে পারে এমন প্রত্যাশায় তেলের দাম আবারও কমেছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান ধরে রেখেছে।
রয়টার্স বলছে, তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি বিস্তৃত সমঝোতার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে, কারণ বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ এবং কতদিন তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে— এসব প্রশ্ন।
এর পরিবর্তে, দুপক্ষ এখন একটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার স্মারকের ভিত্তিতে অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে কাজ করছে। যার লক্ষ্য নতুন করে সংঘাত এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থিতিশীল রাখা।
দুপক্ষের মধ্যস্থতায় জড়িত পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো তারা যেন স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করে। এরপর সরাসরি আলোচনা শুরু হলে বাকি বিষয়গুলো সমাধান করা যেতে পারে।’
সূত্র ও কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে— আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধান এবং একটি বৃহত্তর চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরু।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেহরান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী।’ তিনি বলেন, ‘সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা আশা করছি শিগগিরই তারা চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
আশাবাদী ট্রাম্প, সংশয়ে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি সম্ভাব্য অগ্রগতির কথা বলে আসছেন।
বুধবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়… এটি খুবই সম্ভব।’ পরে তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সংঘাত) দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’
মার্কিন প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সংঘাতের অবসান ঘটাবে, যেখানে গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ স্থগিত হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর মতে, এতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো অমীমাংসিত রয়েছে— যেমন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত হিসেবে বৃহস্পতিবার ইরানকে সমর্থনের অভিযোগে ইরাকের উপ-তেলমন্ত্রী ও তিন মিলিশিয়া নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার বৈরুতে এক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারকে হত্যা করেছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি ছিল লেবাননের রাজধানীতে প্রথম ইসরায়েলি হামলা।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে নতুন সংঘাতের সূচনা করে হিজবুল্লাহ। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি।
তবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে সংশয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যথাসময়ে তেহরান এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে। আর আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতার চেয়ে আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দুপক্ষের সমঝোতার খবরকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রচারণা’ বলে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই প্রচারণা চালাচ্ছে।
চুক্তির আশায় কমছে তেলের দাম
সম্ভাব্য চুক্তির খবরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে নেমেছে। এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছিল।
জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধের অবসান হতে পারে— এমন আশায় বিশ্ব শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং বন্ডের সুদের হার কমেছে।
জি সি আই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক তাকামাসা ইকেদা বলেন, ‘ইরান- যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু খুবই সীমিত, তবে বাজারে এমন প্রত্যাশা রয়েছে যে আর কোনো সামরিক অভিযান হবে না।’
সামরিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলে দুই দিন আগে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নৌ অভিযান স্থগিত করেন। আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এনবিসি নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি আরব এই অভিযানে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত করায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করবে— ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় সৌদি কর্মকর্তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরে তারা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেন, সৌদি ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি জাহাজের ওপর নিজেদের অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।
গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাদ
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রাথমিক চুক্তিতে দুপক্ষ সম্মত হলে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার জন্য ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্মারকটিতে অতীতে ওয়াশিংটনের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহসহ প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি।
এ ছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি (৮৮২ পাউন্ড) অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে, যা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘অস্থায়ী সমঝোতা’র দিকে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা সংঘাত থামাতে পারে, তবে দুপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রয়টার্সের খবরে এমনটাই জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। সূত্রগুলোর মতে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পরিবর্তে ‘স্বল্পমেয়াদি’ সমঝোতা স্মারক কেন্দ্রিক পরিকল্পনা, যা দুপক্ষের গভীর মতপার্থক্যকে স্পষ্ট করছে।
আংশিক কোনো চুক্তিও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে— এমন আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্ন কমতে পারে এমন প্রত্যাশায় তেলের দাম আবারও কমেছে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান ধরে রেখেছে।
রয়টার্স বলছে, তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি বিস্তৃত সমঝোতার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে, কারণ বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ এবং কতদিন তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে— এসব প্রশ্ন।
এর পরিবর্তে, দুপক্ষ এখন একটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফার স্মারকের ভিত্তিতে অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে কাজ করছে। যার লক্ষ্য নতুন করে সংঘাত এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থিতিশীল রাখা।
দুপক্ষের মধ্যস্থতায় জড়িত পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো তারা যেন স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করে। এরপর সরাসরি আলোচনা শুরু হলে বাকি বিষয়গুলো সমাধান করা যেতে পারে।’
সূত্র ও কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে— আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধান এবং একটি বৃহত্তর চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরু।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তেহরান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইসলামাবাদে এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী।’ তিনি বলেন, ‘সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা আশা করছি শিগগিরই তারা চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
আশাবাদী ট্রাম্প, সংশয়ে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আশাবাদী সুরে কথা বলেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি সম্ভাব্য অগ্রগতির কথা বলে আসছেন।
বুধবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়… এটি খুবই সম্ভব।’ পরে তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সংঘাত) দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’
মার্কিন প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সংঘাতের অবসান ঘটাবে, যেখানে গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ স্থগিত হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর মতে, এতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো অমীমাংসিত রয়েছে— যেমন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত হিসেবে বৃহস্পতিবার ইরানকে সমর্থনের অভিযোগে ইরাকের উপ-তেলমন্ত্রী ও তিন মিলিশিয়া নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার বৈরুতে এক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারকে হত্যা করেছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি ছিল লেবাননের রাজধানীতে প্রথম ইসরায়েলি হামলা।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে নতুন সংঘাতের সূচনা করে হিজবুল্লাহ। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি।
তবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে সংশয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যথাসময়ে তেহরান এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে। আর আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই প্রস্তাবটিকে ‘বাস্তবতার চেয়ে আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দুপক্ষের সমঝোতার খবরকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রচারণা’ বলে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই প্রচারণা চালাচ্ছে।
চুক্তির আশায় কমছে তেলের দাম
সম্ভাব্য চুক্তির খবরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে নেমেছে। এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছিল।
জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধের অবসান হতে পারে— এমন আশায় বিশ্ব শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং বন্ডের সুদের হার কমেছে।
জি সি আই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক তাকামাসা ইকেদা বলেন, ‘ইরান- যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু খুবই সীমিত, তবে বাজারে এমন প্রত্যাশা রয়েছে যে আর কোনো সামরিক অভিযান হবে না।’
সামরিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলে দুই দিন আগে ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নৌ অভিযান স্থগিত করেন। আলোচনায় অগ্রগতির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এনবিসি নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি আরব এই অভিযানে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত করায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করবে— ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় সৌদি কর্মকর্তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। পরে তারা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেন, সৌদি ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি জাহাজের ওপর নিজেদের অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।
গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো বাদ
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রাথমিক চুক্তিতে দুপক্ষ সম্মত হলে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার জন্য ৩০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্মারকটিতে অতীতে ওয়াশিংটনের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লাহসহ প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি।
এ ছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজির বেশি (৮৮২ পাউন্ড) অস্ত্র-গ্রেডের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে, যা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

স্থগিত মৃত্যুদণ্ড সাজা হওয়ায় আগামী দুই বছর তাদের এ সাজা স্থগিত থাকবে। এরপর আইন অনুযায়ী এই দণ্ড কমে আমৃত্যু কারাবাসে রূপান্তরিত হবে। তবে শর্ত থাকবে, দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন কোনোভাবেই সাজা কমানোর আবেদন করতে পারবেন না কিংবা প্যারোলে মুক্তি পাবেন না।
৮ ঘণ্টা আগে
ইরানে নতুন করে আবারও হামলা শুরু করতে চায় দখলদার ইসরায়েল। ইহুদিবাদী ভূখণ্ডের সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ফ্রান্স গতকাল বুধবার লোহিত সাগরে তাদের বিমানবাহী রণতরি বহর মোতায়েন করেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্ভাব্য একটি মিশনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে এই প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে, যা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পথ খুলে দিতে পারে।’ তবে ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি— বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
১১ ঘণ্টা আগে