
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘হরমুজ প্রণালি’, যেটি এককভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই প্রণালি খুলে দিতে একের পর এক আলটিমেটাম ও হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাতে কাজ হয়নি। উলটো সবশেষ এক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের পক্ষ থেকে সহজে বা দ্রুত এই প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম!
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়ে থাকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এসব তেল ও গ্যাসের প্রধান গন্তব্য এশিয়ার দেশ হলেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়েই জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধে এটি স্পষ্ট, ইরান এই নৌ পথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে মার্কিন ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ তৈরিতে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এ কারণে তেহরান খুব দ্রুত এই নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অবগত অন্তত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বর্তমান কৌশল হলো— হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে জ্বালানির দাম যত বেশি সম্ভব তুলে দেওয়া, যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধ থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ খুঁজতে বাধ্য হন।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ উলটো তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে পারে। কারণ তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুটকে হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
বিপরীতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ফের চালু করার জটিলতাকে কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনীকে এ পথে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারি, তেল নিতে পারি এবং বিপুল মুনাফা করতে পারি।’
তবে বিশ্লেষকরা দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা ব্যয়বহুল হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, “ইরানকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উলটো তাদের হাতে ‘বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরির অস্ত্র’ তুলে দিয়েছে।”
এই অস্ত্র বলতে ভায়েজ হরমুজ প্রণালিকে বুঝিয়েছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও কিছুটা দ্বিধান্বিত। একদিকে তিনি এটিকে যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে উপসাগরীয় তেলনির্ভর দেশ ও ন্যাটো মিত্রদের হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে বলেছেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে বলে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী। তবে একই সঙ্গে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন, চলমান পরিস্থিতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অন্যান্য দেশের স্বার্থ আরও বেশি করে যুক্ত।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তখন থেকেই ইরানের রক্ষীবাহিনী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়, বাণিজ্যিক চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। বেসামরিক জাহাজে হামলা, সমুদ্রে মাইন পাতা ও চলাচলের জন্য ফি দাবি— এসব পদক্ষেপের ফলে কার্যত প্রণালির চলাচল বন্ধ রয়েছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই।
ইরান এর আগেও ২০১৯ ও ২০২৩ সালে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, বিচ্ছিন্নভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধও করে দিয়েছিল। তবে এবার দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। এতে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং উপসাগরীয় জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
জ্বালানির বাড়তি মূল্য যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে বলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, ইরান এত দ্রুত এই প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা ছাড়বে না। একটি সূত্রের মন্তব্য, ‘ইরান একবার যখন হরমুজ প্রণালির ওপর তার ক্ষমতা ও প্রভাবের স্বাদ পেয়েছে, তখন এত সহজে তা ছাড়বে না।’
হরমুজ প্রণালি চলমান সংকটে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর জন্য, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এই প্রণালি চালুর জন্য এর আগে ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোকে সামরিক অভিযানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি চীনকেও অনুরোধ করেছিলেন ভূমিকা রাখতে। কারও কাছেই সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি নতুন করে দেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই নৌ রুট পুনরায় চালু করতে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রণালিটি ইরান ও ওমানকে পৃথক করেছে। এর সবচেয়ে সরু অংশ ২১ মাইল (প্রায় ৩৩ কিলোমিটার) চওড়া, কিন্তু জাহাজ চলাচলের পথ উভয় দিকে মাত্র ২ মাইল (৩ কিলোমিটারের কিছু বেশি), যা জাহাজ ও সেনাদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দক্ষিণ ইরানের উপকূল বা দ্বীপগুলো দখলও করে, তবুও আইআরজিসি দেশের ভেতর থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। আলি ভায়েজ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে ও জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখতে এক বা দুটি ড্রোনই যথেষ্ট।’
কিছু বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। কারণ যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য তারা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পথ বেছে নিতে পারে। এরই মধ্যে হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েওছে।
সাবেক সিআইএ পরিচালক বিল বার্নস বলেন, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তিতে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ইরান। পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের ফি থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধাও নিতে চাইবে। তার ভাষায়, ‘এ পরিস্থিতি বর্তমান আলোচনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।’
এবারের যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এই মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি, যার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।
একের পর এক আলটিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প কি পারবেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে? মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ট্রাম্পের জন্য কাজটি মোটেও সহজ হবে না।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘হরমুজ প্রণালি’, যেটি এককভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই প্রণালি খুলে দিতে একের পর এক আলটিমেটাম ও হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাতে কাজ হয়নি। উলটো সবশেষ এক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরানের পক্ষ থেকে সহজে বা দ্রুত এই প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম!
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়ে থাকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এসব তেল ও গ্যাসের প্রধান গন্তব্য এশিয়ার দেশ হলেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়েই জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধে এটি স্পষ্ট, ইরান এই নৌ পথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে মার্কিন ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ তৈরিতে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এ কারণে তেহরান খুব দ্রুত এই নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অবগত অন্তত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের বর্তমান কৌশল হলো— হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে জ্বালানির দাম যত বেশি সম্ভব তুলে দেওয়া, যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধ থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ খুঁজতে বাধ্য হন।
গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ উলটো তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে পারে। কারণ তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুটকে হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
বিপরীতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ফের চালু করার জটিলতাকে কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনীকে এ পথে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারি, তেল নিতে পারি এবং বিপুল মুনাফা করতে পারি।’
তবে বিশ্লেষকরা দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা ব্যয়বহুল হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, “ইরানকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উলটো তাদের হাতে ‘বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরির অস্ত্র’ তুলে দিয়েছে।”
এই অস্ত্র বলতে ভায়েজ হরমুজ প্রণালিকে বুঝিয়েছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও কিছুটা দ্বিধান্বিত। একদিকে তিনি এটিকে যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে উপসাগরীয় তেলনির্ভর দেশ ও ন্যাটো মিত্রদের হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে বলেছেন।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে বলে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী। তবে একই সঙ্গে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন, চলমান পরিস্থিতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অন্যান্য দেশের স্বার্থ আরও বেশি করে যুক্ত।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তখন থেকেই ইরানের রক্ষীবাহিনী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়, বাণিজ্যিক চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। বেসামরিক জাহাজে হামলা, সমুদ্রে মাইন পাতা ও চলাচলের জন্য ফি দাবি— এসব পদক্ষেপের ফলে কার্যত প্রণালির চলাচল বন্ধ রয়েছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই।
ইরান এর আগেও ২০১৯ ও ২০২৩ সালে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, বিচ্ছিন্নভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধও করে দিয়েছিল। তবে এবার দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। এতে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং উপসাগরীয় জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
জ্বালানির বাড়তি মূল্য যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে বলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। সূত্রগুলো বলছে, ইরান এত দ্রুত এই প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা ছাড়বে না। একটি সূত্রের মন্তব্য, ‘ইরান একবার যখন হরমুজ প্রণালির ওপর তার ক্ষমতা ও প্রভাবের স্বাদ পেয়েছে, তখন এত সহজে তা ছাড়বে না।’
হরমুজ প্রণালি চলমান সংকটে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর জন্য, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। এই প্রণালি চালুর জন্য এর আগে ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোকে সামরিক অভিযানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি চীনকেও অনুরোধ করেছিলেন ভূমিকা রাখতে। কারও কাছেই সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি নতুন করে দেন তিনি।
তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই নৌ রুট পুনরায় চালু করতে সামরিক অভিযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রণালিটি ইরান ও ওমানকে পৃথক করেছে। এর সবচেয়ে সরু অংশ ২১ মাইল (প্রায় ৩৩ কিলোমিটার) চওড়া, কিন্তু জাহাজ চলাচলের পথ উভয় দিকে মাত্র ২ মাইল (৩ কিলোমিটারের কিছু বেশি), যা জাহাজ ও সেনাদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দক্ষিণ ইরানের উপকূল বা দ্বীপগুলো দখলও করে, তবুও আইআরজিসি দেশের ভেতর থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে। আলি ভায়েজ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে ও জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখতে এক বা দুটি ড্রোনই যথেষ্ট।’
কিছু বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। কারণ যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য তারা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পথ বেছে নিতে পারে। এরই মধ্যে হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েওছে।
সাবেক সিআইএ পরিচালক বিল বার্নস বলেন, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তিতে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ইরান। পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের ফি থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধাও নিতে চাইবে। তার ভাষায়, ‘এ পরিস্থিতি বর্তমান আলোচনাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।’
এবারের যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এই মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত অস্ত্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি, যার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।
একের পর এক আলটিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প কি পারবেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে? মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ট্রাম্পের জন্য কাজটি মোটেও সহজ হবে না।

আলজাজিরা খবরে বলা হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
শনিবার (৪ এপ্রিল) ট্রাম্প নতুন এ আলটিমেটাম দেন ইরানকে। দুই দিন সময় বেঁধে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের ওপর ‘ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ’ বা ‘জাহান্নাম’ নেমে আসবে।
১০ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। গতকাল শুক্রবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মধ্য
১ দিন আগে
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের ৮ সদস্য না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তানে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে আঘাত হানা এক ভূমিকম্পে কাবুল প্রদেশে একই পরিবারের আট সদস্য মারা গেছেন।
১ দিন আগে