
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজ বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ১০টি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পালটাপালটি হামলার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা।
দুই পক্ষের এসব হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর প্রথমবার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা গড় দামও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরান একই সঙ্গে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আগস্টের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা নতুন করে বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। এখন দুই দেশ একে অপরের সামরিক স্থাপনা, জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, তাদের ওপর আরও হামলা হলে পালটা জবাব হবে আরও জোরালো। শত্রুপক্ষ ইরানের দুটি বা তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে ইরান ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নতুন ও আরও বড় একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’র মানচিত্র শিগগির প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই এলাকা ইরানের উপকূলের দূরবর্তী অংশ চাবাহার থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। চাবাহার পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যেও লড়াই বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করা এই সংঘাত এখন যুদ্ধের দ্বিতীয় একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।
আগুনে জ্বলছে ইরানি ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রাতভর অভিযান চালিয়ে তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। জাহাজগুলো ডুবে যাওয়ার আগে আগুনে জ্বলতে থাকা অবস্থার ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আগের দুই দিনে ইরানের আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজে দুই দফা হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবেই ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন নাগরিক আহত হয়নি।

ওয়াশিংটন এরই মধ্যে ইরানি ট্যাংকারে হামলার নতুন নীতি ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে এসব ট্যাংকারে হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তারা। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তিনটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইরানের দাবি, মার্কিন জাহাজে হামলার জন্য তারা নতুন ও আরও সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান এখনো মার্কিন নৌযানগুলোতে আঘাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।’
বুধবার আইআরজিসি জানায়, তারা জর্ডানের পূর্বাঞ্চলের আল আজরাকের কাছে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির যে অংশকে তারা ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করেছে, সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, উপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অচল করে দেওয়ার মতো গোলাবর্ষণের খবর তারা পেয়েছে। এসব স্থান হরমুজ প্রণালির দুই পাশে অবস্থিত। তবে হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পোর্ট রশিদের কাছে একটি জাহাজ একদিকে কাত হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোনো একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাতে জাহাজটিতে পানি ঢুকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরাকের দুই বন্দর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিউ অ্যান্ড্রোস নামের একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানো হলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল ফুয়েল অয়েল ছিল। ইরাকের জলসীমায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। জাহাজের ২২ জন নাবিকের কেউ হতাহত হয়েছেন— এমন খবর পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বহনকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, ইরান এখন কার্যত সেই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা অনেক ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান থেকে ঠিক কত পরিমাণ তেল বের হয়ে আসছে, তা নির্ধারণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ট্রান্সপন্ডার চালু রেখে মাত্র ছয়টি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করেছে।
জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরান জানিয়েছে, জর্ডানে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে জর্ডানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জর্ডানে ইরানের হামলা কার্যকর হয়নি এবং সেখানে থাকা সব মার্কিন সেনা নিরাপদে আছেন।
রয়টার্সের যাচাই করা উত্তর জর্ডানের আশ-শাজারাহ এলাকায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যাচ্ছে।
পুরো যুদ্ধ জুড়েই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানে চালানো একটি হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলনের মধ্যে লড়াই বাড়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের হাতে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দিক থেকে অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়, যা মহাকাশ থেকেও দেখা গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের দেখা গেছে।
গত মাসে রিয়াদের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করা পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হুতিদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি আরব এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
বুধবার সৌদি আরব খামিস মুশাইত শহরের জন্য সম্ভাব্য হামলার হুমকি উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করে। আগের দিন এই শহরেও হামলা হয়েছিল। তবে পরে কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়েই সতর্কতা তুলে নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজ বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ ১০টি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পালটাপালটি হামলার এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা।
দুই পক্ষের এসব হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত জুলাইয়ের পর প্রথমবার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা গড় দামও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইরান একই সঙ্গে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আগস্টের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা নতুন করে বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। এখন দুই দেশ একে অপরের সামরিক স্থাপনা, জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, তাদের ওপর আরও হামলা হলে পালটা জবাব হবে আরও জোরালো। শত্রুপক্ষ ইরানের দুটি বা তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে ইরান ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে নতুন ও আরও বড় একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’র মানচিত্র শিগগির প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই এলাকা ইরানের উপকূলের দূরবর্তী অংশ চাবাহার থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। চাবাহার পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যেও লড়াই বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করা এই সংঘাত এখন যুদ্ধের দ্বিতীয় একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।
আগুনে জ্বলছে ইরানি ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রাতভর অভিযান চালিয়ে তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। জাহাজগুলো ডুবে যাওয়ার আগে আগুনে জ্বলতে থাকা অবস্থার ভিডিওও প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আগের দুই দিনে ইরানের আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজে দুই দফা হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবেই ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন নাগরিক আহত হয়নি।

ওয়াশিংটন এরই মধ্যে ইরানি ট্যাংকারে হামলার নতুন নীতি ঘোষণা করেছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে এসব ট্যাংকারে হামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তারা। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তিনটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইরানের দাবি, মার্কিন জাহাজে হামলার জন্য তারা নতুন ও আরও সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান এখনো মার্কিন নৌযানগুলোতে আঘাত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।’
বুধবার আইআরজিসি জানায়, তারা জর্ডানের পূর্বাঞ্চলের আল আজরাকের কাছে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির যে অংশকে তারা ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করেছে, সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, উপসাগরের উত্তরাঞ্চল এবং ওমান উপসাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অচল করে দেওয়ার মতো গোলাবর্ষণের খবর তারা পেয়েছে। এসব স্থান হরমুজ প্রণালির দুই পাশে অবস্থিত। তবে হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পোর্ট রশিদের কাছে একটি জাহাজ একদিকে কাত হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোনো একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলার আঘাতে জাহাজটিতে পানি ঢুকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরাকের দুই বন্দর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিউ অ্যান্ড্রোস নামের একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানো হলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে ২০ লাখ ব্যারেল ফুয়েল অয়েল ছিল। ইরাকের জলসীমায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। জাহাজের ২২ জন নাবিকের কেউ হতাহত হয়েছেন— এমন খবর পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বহনকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, ইরান এখন কার্যত সেই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা অনেক ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান থেকে ঠিক কত পরিমাণ তেল বের হয়ে আসছে, তা নির্ধারণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ট্রান্সপন্ডার চালু রেখে মাত্র ছয়টি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করেছে।
জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরান জানিয়েছে, জর্ডানে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে জর্ডানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জর্ডানে ইরানের হামলা কার্যকর হয়নি এবং সেখানে থাকা সব মার্কিন সেনা নিরাপদে আছেন।
রয়টার্সের যাচাই করা উত্তর জর্ডানের আশ-শাজারাহ এলাকায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যাচ্ছে।
পুরো যুদ্ধ জুড়েই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। জুলাইয়ে জর্ডানে চালানো একটি হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছিলেন।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলনের মধ্যে লড়াই বাড়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন হুতিদের হাতে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিভিন্ন দিক থেকে অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে তেল স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়, যা মহাকাশ থেকেও দেখা গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের দেখা গেছে।
গত মাসে রিয়াদের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করা পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হুতিদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সৌদি আরব এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
বুধবার সৌদি আরব খামিস মুশাইত শহরের জন্য সম্ভাব্য হামলার হুমকি উল্লেখ করে সতর্কতা জারি করে। আগের দিন এই শহরেও হামলা হয়েছিল। তবে পরে কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়েই সতর্কতা তুলে নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

জবাবে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া পালটা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে কয়েকজন ব্রিটিশ রাজনীতিক ও কর্মকর্তার ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে পশ্চিম তীরের বসতি ইস্যুতে ইসরায়েল ও তার কয়েকটি ঐতিহ্যগত পশ্চিমা মিত্রের মধ্যে কূট
১৮ ঘণ্টা আগে
ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে স্থানীয় থানায় মামলা করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
১ দিন আগে
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুরকি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা নেবে এবং তাদের বৈরী কর্মকাণ্ডের দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।’
১ দিন আগে
জার্মানির মতো ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতেও যদি মূলধারার একটি ঐতিহ্যবাহী দল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের বেশি ভোট হারায় এবং কট্টর ডানপন্থি দল প্রায় অর্ধেক ভোট পায়, তাহলে ইউরোপের অন্যান্য সরকারের জন্য এর বার্তা স্পষ্ট।
১ দিন আগে