
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শহরটি বাব-এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পথও এখন ঝুঁকির মুখে।
বাব এল-মান্দেব থেকে মোখা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চারটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে তারা হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে এগোচ্ছে। ধুবাব বাব এল-মান্দেবের একেবারে কাছাকাছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
মোখা দখলের তাৎপর্য বাব এল-মান্দেবের গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়। বাব এল-মান্দেবের পরই লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এখন হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির একটি বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের রুটের ওপরও বেশি নির্ভর করছে। সেই রুটের প্রবেশপথের কাছেই হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ, মোখা দখলের পেছনে ইরানের সরাসরি সামরিক সহায়তা ও পরামর্শের অভিযোগ রয়েছে। ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা হুতিদের নতুন অভিযানে অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক পরামর্শ দিয়েছেন। ইরান অবশ্য প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মোখা দখলের আগে থেকেই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের হামলা বেড়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা, নজরান ও জিজান এলাকায় জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের কাছে আরও বিমান সহায়তা চেয়েছিল। তবে রিয়াদ বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানো থেকে বিরত থেকেছে বলে ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, ব্যাপক হামলা চালালে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের আরও বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর ফলে ইয়েমেনে ২০২২ সালের পর অনেকটাই থেমে থাকা বড় আকারের সংঘাত আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তায়িজ ও হুদাইদা এলাকায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইয়েমেনি সরকারি তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
মোখা দখলকে শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের একটি সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা, এর মাধ্যমে হুতিরা বাব এল-মান্দেবের আরও কাছে অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালির আশপাশের ধুবাব ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি হুমকি তৈরি হতে পারে। মায়ুন দ্বীপটি বাব এল-মান্দেবের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় সেখান থেকে প্রণালির জাহাজ চলাচলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।
হুতিদের অগ্রযাত্রার প্রভাব এরই মধ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও সপ্তাহের হিসাবে দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব— দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একসঙ্গে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর চাপ পড়তে পারে।
অর্থাৎ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি নতুন পরিণতি এখন ইয়েমেনের উপকূলে দৃশ্যমান। হরমুজে ইরানের চাপের পাশাপাশি বাব এল-মান্দেবের কাছে হুতিদের অগ্রযাত্রা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুধু তেল সরবরাহেই নয়, এশিয়া-ইউরোপের পুরো সমুদ্রবাণিজ্যেও বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শহরটি বাব-এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পথও এখন ঝুঁকির মুখে।
বাব এল-মান্দেব থেকে মোখা প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চারটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুতিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একই সময়ে তারা হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে এগোচ্ছে। ধুবাব বাব এল-মান্দেবের একেবারে কাছাকাছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
মোখা দখলের তাৎপর্য বাব এল-মান্দেবের গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়। বাব এল-মান্দেবের পরই লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এখন হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির একটি বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের রুটের ওপরও বেশি নির্ভর করছে। সেই রুটের প্রবেশপথের কাছেই হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ, মোখা দখলের পেছনে ইরানের সরাসরি সামরিক সহায়তা ও পরামর্শের অভিযোগ রয়েছে। ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা হুতিদের নতুন অভিযানে অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক পরামর্শ দিয়েছেন। ইরান অবশ্য প্রকাশ্যে হুতিদের সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মোখা দখলের আগে থেকেই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের হামলা বেড়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা, নজরান ও জিজান এলাকায় জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের কাছে আরও বিমান সহায়তা চেয়েছিল। তবে রিয়াদ বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানো থেকে বিরত থেকেছে বলে ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, ব্যাপক হামলা চালালে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের আরও বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর ফলে ইয়েমেনে ২০২২ সালের পর অনেকটাই থেমে থাকা বড় আকারের সংঘাত আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে তায়িজ ও হুদাইদা এলাকায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইয়েমেনি সরকারি তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
মোখা দখলকে শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের একটি সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা, এর মাধ্যমে হুতিরা বাব এল-মান্দেবের আরও কাছে অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালির আশপাশের ধুবাব ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি হুমকি তৈরি হতে পারে। মায়ুন দ্বীপটি বাব এল-মান্দেবের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় সেখান থেকে প্রণালির জাহাজ চলাচলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে।
হুতিদের অগ্রযাত্রার প্রভাব এরই মধ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও সপ্তাহের হিসাবে দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব— দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একসঙ্গে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর চাপ পড়তে পারে।
অর্থাৎ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি নতুন পরিণতি এখন ইয়েমেনের উপকূলে দৃশ্যমান। হরমুজে ইরানের চাপের পাশাপাশি বাব এল-মান্দেবের কাছে হুতিদের অগ্রযাত্রা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুধু তেল সরবরাহেই নয়, এশিয়া-ইউরোপের পুরো সমুদ্রবাণিজ্যেও বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

দুই ইরানি ঊর্ধ্বতন সূত্রসহ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্য ব্যক্তিরা রয়টার্সকে বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান চীন থেকে ওষুধ, যানবাহন ও যোগাযোগ সরঞ্জাম কিনেছে। গত এক বছরে অন্তত একবার কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহসংক্রান্ত চুক্তিতেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেন। তিনি জানান, তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক, পরামর্শ ও যোগাযোগ চলছে। তবে এই মুহূর্তে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ বা নতুন সদস্য নেওয়ার কোনো আলোচনা নেই।
২০ ঘণ্টা আগে
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান কীভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ হায়দার বলেন, ‘এ মুহূর্তে এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। সময় এলে আমরা চুক্তির আওতায় পদক্ষেপ নেব।’
২০ ঘণ্টা আগে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মোখা দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা হামলা চালাচ্ছে।
২১ ঘণ্টা আগে