বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিবিসি বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যানোরমা তথ্যচিত্রে তার ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারিতে দেওয়া বক্তব্য সম্পাদনা নিয়ে বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন।

ফ্লোরিডার আদালতের নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সম্প্রচার সংস্থাটির বিরুদ্ধে মানহানি ও ট্রেড প্র্যাকটিস ল লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

তিনি তার দুটি দাবির প্রতিটির জন্য পাঁচ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

গত নভেম্বরে বিবিসি ট্রাম্পের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলো এবং 'মানহানির দাবির ভিত্তি' থাকার বিষয়ে একমত হয়নি।

মি. ট্রাম্পের আইনি দল বিবিসির বিরুদ্ধে তার বক্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে ও প্রতারণামূলকভাবে সম্পাদনার অভিযোগ এনেছে।

বিবিসি এখনো এই মামলার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ট্রাম্প গত মাসে বলেছিলেন যে তিনি তথ্যচিত্রটির জন্য বিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা করছেন। ওই তথ্যচিত্রটি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্যে সম্প্রচার করা হয়েছিলো।

"আমি মনে করি এটা করা উচিত," ট্রাম্প বিমানে তার সাথে থাকা সাংবাদিকদের বলেছিলেন। "তারা প্রতারণা করেছে। তারা আমার মুখ থেকে বের হওয়া কথা পরিবর্তন করে দিয়েছে"।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার আগে ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, "আমরা ক্যাপিটল হিলের দিকে যাবো এবং আমরা আমাদের সাহসী সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যদের উৎসাহ যোগাবো"।

এই বক্তব্যেই এর প্রায় ৫০ মিনিট পর তার বক্তৃতায় তিনি বলেন, "এবং আমরা লড়ব। আমরা প্রাণপণ লড়াই করবো"।

কিন্তু প্যানোরমা তথ্যচিত্রের একটি ক্লিপে তাকে বলতে দেখা যাচ্ছে, "আমরা ক্যাপিটল হিলের দিকে যাবো...এবং আমি সেখানে আপনাদের সাথে থাকবো। এবং আমরা লড়াই করবো। আমরা প্রাণপণে লড়াই করবো"।

বিবিসি স্বীকার করে নিয়েছে যে 'সম্পাদনার কারণে একটি ভুল ধারণা গেছে যে তিনি সরাসরি সহিংসতাকে উসকে দিয়েছেন'।

কিন্তু বিবিসি দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

প্রসঙ্গত, নভেম্বরের প্রথম দিকে বিবিসি প্যানোরমার তথ্যচিত্রে দর্শকদের বিভ্রান্ত করা নিয়ে সমালোচনার পর পদত্যাগ করেছিলেন বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তা প্রধান ডেবোরাহ টারনেস।

একই দিনে বিবিসির মহাপরিচালক ও হেড অফ বিবিসি নিউজের এই পদত্যাগের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।

এরপর তথ্যচিত্রটি 'পূর্ণ ও ন্যায্যভাবে প্রত্যাহার' করার জন্য বিবিসিকে ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা। অন্যথায় এক বিলিয়ন ডলারের মামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে তখন জানানো হয়েছিলো।

এরপর ট্রাম্পের চিঠি পেয়েছিলো বিবিসি, যেখানে ক্ষমা চাওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে 'যথাযথ ক্ষতিপূরণ' দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্রাম্প মামলা দায়ের করার আগে, বিবিসির আইনজীবীরা তার দাবির ওপর দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন যে সম্পাদনায় কোনো বিদ্বেষ ছিল না এবং অনুষ্ঠানটি প্রচারের পরও ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এই অনুষ্ঠানের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

তারা আরও বলেছেন, বিবিসি যুক্তরাষ্ট্রের চ্যানেলগুলোতে প্যানোরামা অনুষ্ঠানটি প্রচার করেনি এবং তাদের এ ধরনের অধিকারও ছিল না। যদিও তথ্যচিত্রটি বিবিসি আইপ্লেয়ারে ছিল, এটি শুধু যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।

মামলায় ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে বিবিসির অন্যান্য পরিবেশকের সঙ্গে চুক্তি ছিল, যার মাধ্যমে কনটেন্ট প্রদর্শন করা হতো। বিশেষ করে একটি তৃতীয় পক্ষের মিডিয়া কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তির কথা বলা হয়েছে, যাদের যুক্তরাজ্যের বাইরে ওই তথ্যচিত্রের লাইসেন্সিং অধিকার ছিল বলে অভিযোগ।

এসব দাবির বিষয়ে বিবিসি কোনো মন্তব্য করেনি, একইভাবে অভিযোগে উল্লিখিত কর্পোরেশনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লোরিডার কিছু মানুষ ভিপিএন ব্যবহার করে অথবা ব্রিটবক্স নামের স্ট্রিমিং সার্ভিসের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন।

"প্যানোরামা তথ্যচিত্রের প্রচারণা এবং এর প্রকাশের পর ফ্লোরিডায় ভিপিএন ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি—এ দুটি বিষয় প্রমাণ করে যে বিবিসি এটি সরানোর আগে ফ্লোরিডার নাগরিকরা তথ্যচিত্রটি দেখেছেন, এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি," মামলায় বলা হয়েছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

তেহরান বিমানবন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া দেশটির সাথে কোনো চুক্তি হবে না। একই সাথে তিনি বলেছেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।

২ ঘণ্টা আগে

মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে ইরানকে রাশিয়ার গোপন তথ্য সহায়তা

রাশিয়ার সহায়তার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষমতা প্রতিদিন কমছে, নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

২ ঘণ্টা আগে

কিছু দেশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ শুরু করেছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কিছু দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে। পরিষ্কার বলি, আমরা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, তবে আমাদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো দ্বিধা নেই’।

১৬ ঘণ্টা আগে

৭ম দিনে ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপ— কোথায় কী ঘটছে

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলারই আগে বাজেটে ধরা ছিল না। এ হিসাব বলছে, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার।

১৭ ঘণ্টা আগে