যুদ্ধবিরতিতে ক্ষুব্ধ ইরানিরা, একে ‘মার্কিন চাল’ হিসেবে দেখছেন তারা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ১৫
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ উত্তেজনার পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও উল্লাস নেই তেহরানের রাজপথে। বরং আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ও সন্দিহান সাধারণ ইরানিরা। মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তেহরান সায় দিলেও একে 'ইসরায়েলের জন্য সময় ক্ষেপণ' এবং 'নিজেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত' হিসেবেই দেখছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।

কিন্তু তেহরানের রাস্তায় এখন একটাই প্রশ্ন—হঠাৎ কেন এই যুদ্ধবিরতি? বিশ্ব যখন এই নাটকীয় সিদ্ধান্তে অবাক। তখন সাধারণ ইরানিদের কণ্ঠে চরম ক্ষোভ।

এমনকি ক্ষোভ প্রকাশ করতে অনেককেই রাজপথে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। তাদের হাতে থাকা জাতীয় পতাকা গাড়ির জানালা দিয়ে পতপত করে উড়ছিল। গাড়ি থেকে এক নারী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা ইতিপূর্বে দুবার আলোচনার টেবিলে বসেছি, আর তারা সেই সুযোগে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এই যুদ্ধবিরতিও তারা কেবল নিজেদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্যই ব্যবহার করবে।’

অন্য এক ইরানি নারীর কণ্ঠে ঝরছিল চরম তিক্ততা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমেরিকার স্বভাব কি কখনো বদলায়? বুঝতে পারছি না কেন তারা হঠাৎ হামলা বন্ধে রাজি হলো। বরাবরের মতোই হয়তো ইসরায়েলের জন্য সময় বের করতে চাইছে তারা।’

ঠিক সেই মুহূর্তে পাশ থেকে আরেক নারী উচ্চস্বরে বলে ওঠেন— ‘আমাদের নেতা তো শহীদ হয়েছেন, (তবে কেন এই আপস?)’ মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরেও সাধারণ ইরানিদের মধ্যে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে।

তেহরানের এনঘেলাব চত্বরে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। পতাকা হাতে সড়কে ভিড়। এক গাড়ির মহিলা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন: “আমরা কেন যুদ্ধবিরতি করব? এখানে লেখা ছিল, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’ এখন সেটা আবার খুলে গেছে।”

আরেক নারীর দাবি, বর্তমান নেতৃত্ব এখনো এই যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘নতুন সুপ্রিম লিডার নিজে যদি সামনে এসে এই সমঝোতায় সম্মতি দেন, কেবল তখনই আমরা তা মেনে নেব। তিনি তো এখনো কিছু বলেননি; বরং মনে হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিকে নিজেদের জয় হিসেবে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্প ইরানের শর্তেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লিভিট একেবারে উল্টো কথা বলেছেন: “সত্য হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করেছে। এবং আলোচনা চলবে।”

সবশেষে তেহরানের গাড়ি চলছে। পতাকা উড়ছে। কিন্তু মুখে কোনো উল্লাস নেই। বরং আছে সন্দেহ, ক্ষোভ আর একটাই প্রশ্ন–‘কেন হঠাৎ যুদ্ধবিরতি?’

অনেকেই মনে করছেন, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি আসলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেবে। দীর্ঘদিনের সংঘাত আর ত্যাগের পর এমন আপসকামিতা তেহরানের মুক্তিকামী মানুষের মনে এক গভীর সংশয় ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘আইডিএফ মিথ্যা বলছে’, পশ্চিম তীরে আটকে রাখার ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট এই আইনপ্রণেতা বলেন, “আইডিএফ মিথ্যা বলছে। তারা সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের মার্কিন নাগরিকদের আটকে রাখতে দিয়েছে, এমনকি একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাকেও।”

১৫ ঘণ্টা আগে

ফের হরমুজ ঘিরে তীব্র সংঘাত, তেহরান বলছে ‘কূটনীতি অর্থহীন’

ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে— এমন কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার ভবিষ্যৎ নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

১৬ ঘণ্টা আগে

ব্যাংককে বারে আগুন, প্রাণ গেল ২৭ জনের

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বারের মঞ্চের কাছাকাছি একটি জায়গায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুতই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় ঘরটি।

১৭ ঘণ্টা আগে

আমরা চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প

ট্রাম্প বলেছেন, গত শনিবার তারা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি ছিলেন। এমন সময় ইরান হঠাৎ একটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়ে সেটি ভেস্তে দেয়।

১ দিন আগে