ইরান ইস্যুতে ৬ মুসলিম দেশকে নতুন শর্ত দিলেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ফলপ্রসূ করতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানসহ অন্তত ৬টি মুসলিম দেশকে বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি না হলে আগের চেয়েও ভয়াবহ যুদ্ধের পথে হাঁটতে হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আলোচনায় বিতর্কিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রসঙ্গ টেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ‘জটিল সংকটের’ সমাধান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ৬টি মুসলিম দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।

সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই শর্তের কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। এটি সবার জন্যই একটি ভালো চুক্তি হবে, না হলে কোনো চুক্তিই হবে না।’

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালীভাবে যুদ্ধের পথে ফিরতে হবে।’

এর আগে, শনিবার (২৩ মে) মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম-প্রধান ৮টি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের মতো জটিল সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রেখেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’

তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইতিমধ্য এই চুক্তির সদস্য।

তবে দীর্ঘ ওই পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ইসরাইলের নাম নেননি। ফলে তিনি প্রচলিত অর্থে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের কথা বলেছেন, নাকি আরও বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

উল্লেখ্য, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি।

ট্রাম্প আরও বলেন, এটি সৌদি আরব ও কাতারের দ্রুত স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। এরপর অন্য দেশগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত। কেউ যদি এতে অংশ নিতে না চায়, তাহলে সেটি খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হতে পারে।

তিনি যোগ করেন, এক বা দুটি দেশের অংশ না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে, সেটি গ্রহণযোগ্য। তবে বেশিরভাগ দেশেরই প্রস্তুত, আগ্রহী ও সক্ষম থাকা উচিত, যাতে ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতা একটি ঐতিহাসিক ঘটনায় পরিণত হয়।

তবে ট্রাম্প যে ছয়টি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কেউই এখন পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।

রাজনীতি/এসআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ট্রাম্প বললেন সমঝোতা ‘এগোচ্ছে’, ইরান বলছে চুক্তি ‘কাছে তবু দূরে’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবশেষ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, সমঝোতার আলোচনা ‘গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে’। তবে এ নিয়ে তাড়াহুড়া না করতে বলেছেন তিনি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ চুক্তি নিয়ে দুই দেশ ‘খুব কাছাকাছি এলেও এখনো দূরেও রয়ে গেছে’।

২১ ঘণ্টা আগে

ক্রেমলিনের অন্দরে চাপা অসন্তোষ, বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পুতিন

স্কুলশিক্ষিকার সঙ্গে পুতিনের সেই সৌজন্য সাক্ষাতের দৃশ্যটি মূলত পশ্চিমা গণমাধ্যমের সেই দাবিকে উড়িয়ে দেওয়ার জন্যই সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছিল। গত ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা রুশ নেতা নিজের যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন, এটি ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ— একজন আত্মবিশ্বাসী, সাধারণ মানুষের কাছের রাষ্ট্রনেতা, যিনি ব্যস্ততার

২ দিন আগে

যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মোশতবা কিয়ান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ওই ব্যক্তির ফাঁসি রোববার ভোরে কার্যকর করা হয়।

২ দিন আগে

অবশেষ সমঝোতার পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় কী আছে?

এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান যুদ্ধেরও অবসান ঘটবে। একটি ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই শর্তটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

২ দিন আগে