গ্রেটাসহ ফ্লোটিলার ১৫৬ অভিযাত্রীকে গ্রিসে পাঠাচ্ছে ইসরায়েল

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০: ১৭
গ্রেটা থুনবার্গ। ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজামুখী 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'-র ১৫৬ জন অভিযাত্রীকে ইসরায়েল গ্রিসে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আটক অভিযাত্রীদের মধ্যে পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। গ্রেটা অভিযোগ করেছেন, আটকের সময় তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকাকে চুমু খেতে বাধ্য করা হয় এবং ছারপোকায় ভরা কক্ষে রাখা হয়।

শনিবার ইসরায়েলের টেলিভিশন সংবাদমাধ্যম আই ২৪ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য।

চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোটিলা অভিযানে গ্রিসের যতজন নাগরিক ছিলেন— তাদেরকে এবং গ্রেটাসহ ১৬৫ জন অভিযাত্রীকে একটি বিশেষ বিমানে গ্রিসে পাঠানো হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে গাজার উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মিশনের অন্তর্ভুক্ত ৪৩টি নৌযান। ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লেবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা— ফিলিস্তিনিভিত্তিক এই ৪ আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চার সংগঠনের জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) ছিল এই মিশনের মূল উদ্যোক্তা।

সুইডেনের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ও রাজনীতিবিদ মান্ডলা ম্যান্ডেলাসহ ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক ছিলেন সেই মিশনে। এই নাগরিকদের কেউ পার্লামেন্টারিয়ান, কেউ আইনজীবী, কেউ রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী এবং কেউ বা স্বেচ্ছাসেবী।

গত বুধবার রাতে প্রথমে ১৩টি নৌযান আটকায় ইসরায়েলের নৌবাহিনী; কিন্তু তারপরও বাকি ৩০টি নৌযান গাজার উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছিল। এই ৩০টি জাহাজের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল পোল্যান্ডের নৌযান ম্যারিনেত্তি।

পরের দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একে একে সেই নৌযান আটক করে ইসরায়েলের নৌ সেনারা। আটক নৌযানগুলো এবং অভিযাত্রীদের ইসরায়েলে আশদোদ বন্দরে রাখা হয়েছে।

আটক অভিযাত্রীদের মধ্যে গ্রেটা থুনবার্গও আছেন। আই ২৪-এর প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযাত্রীদের মধ্যে কয়েক জনকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আটক অবস্থায় ইসরায়েলে সুইডেনের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়েছিল গ্রেটা-কে। কর্মকর্তাদের তিনি জানিয়েছেন যে তাকে ছারপোকায় পরিপূর্ণ একটি কারকক্ষে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে না।

এমনকি তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকাকে চুমু দেওয়া, সেই পতকা ধরে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গ্রেটা।

অভিযাত্রী দলের অন্যতম সদস্য ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো ডি’ আগুস্টিনো গার্ডিয়ানকে বলেছেন, “আমাদের সবার সামনেই গ্রেটাকে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে, ইসরায়েলের পতাকাকে চুমু খেতে এবং পতাকা গায়ে জড়িয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে।”

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

চুক্তি না হলে সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের টার্গেট মার্কিন কোম্পানি

আইআরজিসি এক বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত এমন ১৮টি মার্কিন কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছে। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, ইন্টেল, আইবিএম, টেসলা ও বোয়িংয়ের মতো সব জায়ান্ট রয়েছে এ তালিকায়।

১৮ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধের দ্রুত অবসান চান ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬ শতাংশ) মানুষ মনে করছেন, ইরানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য পূর্ণ না হলেও দেশটির উচিত দ্রুত এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

১৮ ঘণ্টা আগে

এবার যুদ্ধের পথে আমিরাত, নিচ্ছে প্রস্তুতি

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাত হবে প্রথম দেশ, যারা এই সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হবে।

১৯ ঘণ্টা আগে

ইরান যুদ্ধ শেষে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী সুবিধা পাচ্ছে, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রুবিওর ভাষায়, 'এই সম্পর্ক আমাদের জন্য কতটা কার্যকর—তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।'

১৯ ঘণ্টা আগে