ইরানে প্রাণহানি বেড়ে ৫ হাজার, বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির 'ইন্ধন' দেখছে সরকার

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইরানের বিক্ষোভে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গত ১৮ জানুয়ারি জানিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এ বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির 'ইন্ধন' রয়েছে বলে মনে ইরান সরকার।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাঁচ হাজার প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভের সময় ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা’ নিরীহ ইরানিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তার দাবি, সহিংসতার বড় একটি অংশ পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটকে কেন্দ্র করে আন্দোলন হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৮ জানুয়ারি দেশ জুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে সরকার। এরপর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সে সময় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো যাচাই করতে পারেনি। তবে রোববার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সরকারিভাবে পাওয়া তথ্যে বিক্ষোভে পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা পাঁচ হাজারের খুব বেশি হবে না বলে সরকার আশা করছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হয়েছে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দিশ অধ্যুষিত অঞ্চলে। সেখানে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি ছিল এবং নিহতের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।

ইরানি কর্মকর্তার দাবি, ইসরাইল ও বিভিন্ন বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছে এবং তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিপুল প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দায়ী। বিদেশি জড়িতদের বিনা শাস্তিতে পার পেতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সরকারি এ পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সর্বশেষ হিসাব দেয়। সংস্থাটি শনিবার জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেরেছে। পাশাপাশি আরও চার হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল তারা।

ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে সর্বশেষ এই দাবির মাধ্যমে বিক্ষোভ ঘিরে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ২৪ ক্রু উদ্ধার

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, জাহাজটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলায় কয়েকজন ক্রু আহত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

৯ ঘণ্টা আগে

আত্মসমর্পণ নয়, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব: হিজবুল্লাহ প্রধান

সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত এই সংগঠন কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলের কাছে "আত্মসমর্পণ করবে না"। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েল লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিলেও এখন ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

১০ ঘণ্টা আগে

ইরানে হামলা করে ট্রাম্প কি প্রেসিডেন্সি নিয়ে ‘জুয়া’ খেললেন!

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’ও এটি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের বিস্তার— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এখন খাদের কিনারায়।

১০ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে নাকচ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবটি উঠেছিল মার্কিন সিনেটে। প্রস্তাবের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন সিনেটর র‍্যান্ড পল। আর প্রস্তাবের বিপক্ষে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন সিনেটর জন ফেটারম্যান।

১১ ঘণ্টা আগে