
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় নিজেকে ‘শান্তিপ্রিয়’ হিসেবেই হাজির করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবারই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি যুদ্ধে জড়াবেন না, বরং বিশ্বের সব যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার বছর ঘুরতেই ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি হামলায় জড়ালেন ইরানের সঙ্গে।
গত পাঁচ দিন ধরে ইরানের ওপর অব্যাহত হামলা ধরে রেখেছেন ট্রাম্প। এমনকি বলেছেন, অনন্তকাল ধরে এ যুদ্ধ চালাতে হলেও তার জন্য অস্ত্রশস্ত্রের মজুত তার রয়েছে। যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
চলমান এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশ্লেষণে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’ও এটি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের বিস্তার— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এখন খাদের কিনারায়।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বের করে আনবেন। নির্বাচনের সময় বারবার তিনি এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেননি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের পরের চিত্র বলছে, নির্বাচনি প্রচারের সময়কার ট্রাম্পের বিপরীতে এখন তিনি রীতিমতো ‘যুদ্ধবাজ’ হয়ে উঠেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় সাতটি দেশে সামরিক অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাম্প। সবশেষ ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়া এ যুদ্ধের গতিপথ এখনো অনিশ্চয়তায় ভরা। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, এ অবস্থান পরিবর্তন ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা— ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত হানলে তেহরান পিছু হটবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ হামলার শিকার এবং বিশেষ করে দীর্ঘ ৩৭ বছর নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারানো ইরান আরও আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান কয়েক দফায় হামলা করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির নেতৃত্বস্থানীয়রাও স্পষ্ট করেই বলেছেন, এমন হামলা অব্যাহত থাকবে। চলমান অবস্থায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়তে পারে, যে অনিশ্চয়তা ট্রাম্পের জন্য বড় একটি ঝুঁকি।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য বরাবরই ‘অভিশাপ’ হয়ে এসেছে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ জর্জ ডব্লিউ বুশের রাজনৈতিক ইমেজ ও উত্তরাধিকারকে কলঙ্কিত করেছিল। জিমি কার্টারের পরাজয়েরও অন্যতম কারণ মনে করা হয় ইরানে মার্কিন জিম্মিদের উদ্ধারে ব্যর্থ অভিযানকে।
ইরান যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিণতিও ট্রাম্পকে একই পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউজের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে বলে জানাচ্ছে নিউইয়র্ক টাইমস।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে উঠে এসেছে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিদের মাত্র একজন ইরানে হামলাকে সমর্থন করেন। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ইরানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। যুদ্ধ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বা জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমনকি এই যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের সমর্থক গোষ্ঠীতেও বিভাজন তৈরি করেছে। কারণ একদিকে রিপাবলিকানদের একাংশ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্যদিকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসীরা বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

আবার যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে শঙ্কা ছিল আগেই। এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনমুখী যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব আরও জটিল করে তুলেছে, নিউইয়র্ক টাইমস যাকে রীতিমতো ট্রাম্পের জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানে আক্রমণ শুরু করলেও তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান সব আইনপ্রণেতারাই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এত বড় সামরিক পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধান কতটুকু অনুমোদন করে, উঠেছে সে প্রশ্নও।
ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত ও তদন্তের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সে ক্ষেত্রে এই যুদ্ধের সঙ্গেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকবে বলে মনে করছে নিউইয়র্ক টাইমস।
ইরানে হামলার মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই যুদ্ধ ছড়িয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ছড়িয়েছে অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে তেল-এলএনজির দাম বাড়তে বাড়তে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে, যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই ঠেলে দেবে অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার দিকে।
এ যুদ্ধে ইরানে হতাহতের সংখ্যাসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকলেও এর বিপরীতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলেও খবর আসতে শুরু করেছে। দিন দিন আরও বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে মার্কিন মিত্ররা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। তাতে ট্রাম্পকে আরও আরও বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এত সব ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান অভিযানকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে চিত্রিত করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাকে তিনি নিজের বড় অর্জন হিসেবেই প্রচার করছেন।
এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো আসা এখনো বাকি। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তার বাহিনী এমন হামলা করবে যা কেউ কখনো দেখেনি।
‘যুদ্ধবাজ’ হয়ে ওঠা ট্রাম্পের এসব আচরণকে স্পষ্টতই ‘জুয়া’ খেলার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে, যার স্পষ্ট প্রভাব গিয়ে পড়বে তার প্রেসিডেন্সির ওপর।
নিউইয়র্ক টাইমসই কেবল নয়, ইরানে হামলার পর প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে বলা হয়— ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জুয়াটিই খেলে ফেললেন। এ যুদ্ধের আগামী কয়েকদিনের গতিপথই হয়তো ট্রাম্পকে নিয়ে এমন সব মূল্যায়নের উত্তর দেবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় নিজেকে ‘শান্তিপ্রিয়’ হিসেবেই হাজির করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবারই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি যুদ্ধে জড়াবেন না, বরং বিশ্বের সব যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার বছর ঘুরতেই ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি হামলায় জড়ালেন ইরানের সঙ্গে।
গত পাঁচ দিন ধরে ইরানের ওপর অব্যাহত হামলা ধরে রেখেছেন ট্রাম্প। এমনকি বলেছেন, অনন্তকাল ধরে এ যুদ্ধ চালাতে হলেও তার জন্য অস্ত্রশস্ত্রের মজুত তার রয়েছে। যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
চলমান এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশ্লেষণে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’ও এটি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধের বিস্তার— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এখন খাদের কিনারায়।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বের করে আনবেন। নির্বাচনের সময় বারবার তিনি এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেননি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের পরের চিত্র বলছে, নির্বাচনি প্রচারের সময়কার ট্রাম্পের বিপরীতে এখন তিনি রীতিমতো ‘যুদ্ধবাজ’ হয়ে উঠেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় সাতটি দেশে সামরিক অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাম্প। সবশেষ ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়া এ যুদ্ধের গতিপথ এখনো অনিশ্চয়তায় ভরা। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, এ অবস্থান পরিবর্তন ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা— ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত হানলে তেহরান পিছু হটবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের বড় অংশই মনে করেন, বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ হামলার শিকার এবং বিশেষ করে দীর্ঘ ৩৭ বছর নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারানো ইরান আরও আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান কয়েক দফায় হামলা করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির নেতৃত্বস্থানীয়রাও স্পষ্ট করেই বলেছেন, এমন হামলা অব্যাহত থাকবে। চলমান অবস্থায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়তে পারে, যে অনিশ্চয়তা ট্রাম্পের জন্য বড় একটি ঝুঁকি।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য বরাবরই ‘অভিশাপ’ হয়ে এসেছে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ জর্জ ডব্লিউ বুশের রাজনৈতিক ইমেজ ও উত্তরাধিকারকে কলঙ্কিত করেছিল। জিমি কার্টারের পরাজয়েরও অন্যতম কারণ মনে করা হয় ইরানে মার্কিন জিম্মিদের উদ্ধারে ব্যর্থ অভিযানকে।
ইরান যুদ্ধের অনিশ্চিত পরিণতিও ট্রাম্পকে একই পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউজের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে বলে জানাচ্ছে নিউইয়র্ক টাইমস।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে উঠে এসেছে, প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিদের মাত্র একজন ইরানে হামলাকে সমর্থন করেন। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ইরানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। যুদ্ধ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বা জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। এমনকি এই যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজের সমর্থক গোষ্ঠীতেও বিভাজন তৈরি করেছে। কারণ একদিকে রিপাবলিকানদের একাংশ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্যদিকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসীরা বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

আবার যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে শঙ্কা ছিল আগেই। এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনমুখী যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব আরও জটিল করে তুলেছে, নিউইয়র্ক টাইমস যাকে রীতিমতো ট্রাম্পের জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ইরানে আক্রমণ শুরু করলেও তিনি কংগ্রেসকে এড়িয়ে এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান সব আইনপ্রণেতারাই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এত বড় সামরিক পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধান কতটুকু অনুমোদন করে, উঠেছে সে প্রশ্নও।
ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত ও তদন্তের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সে ক্ষেত্রে এই যুদ্ধের সঙ্গেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে থাকবে বলে মনে করছে নিউইয়র্ক টাইমস।
ইরানে হামলার মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই যুদ্ধ ছড়িয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ছড়িয়েছে অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে তেল-এলএনজির দাম বাড়তে বাড়তে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে, যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই ঠেলে দেবে অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার দিকে।
এ যুদ্ধে ইরানে হতাহতের সংখ্যাসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকলেও এর বিপরীতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলেও খবর আসতে শুরু করেছে। দিন দিন আরও বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে মার্কিন মিত্ররা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। তাতে ট্রাম্পকে আরও আরও বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এত সব ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান অভিযানকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে চিত্রিত করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাকে তিনি নিজের বড় অর্জন হিসেবেই প্রচার করছেন।
এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো আসা এখনো বাকি। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তার বাহিনী এমন হামলা করবে যা কেউ কখনো দেখেনি।
‘যুদ্ধবাজ’ হয়ে ওঠা ট্রাম্পের এসব আচরণকে স্পষ্টতই ‘জুয়া’ খেলার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে, যার স্পষ্ট প্রভাব গিয়ে পড়বে তার প্রেসিডেন্সির ওপর।
নিউইয়র্ক টাইমসই কেবল নয়, ইরানে হামলার পর প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে বলা হয়— ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জুয়াটিই খেলে ফেললেন। এ যুদ্ধের আগামী কয়েকদিনের গতিপথই হয়তো ট্রাম্পকে নিয়ে এমন সব মূল্যায়নের উত্তর দেবে।

হামলা-হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে দুপক্ষেই বাড়ছে হতাহতের। পাশপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা নিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১২ ঘণ্টা আগে
এর কারণটাও সহজেই অনুমেয়— সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে হরমুজ প্রণালি মাত্র ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখান দিয়ে পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে তৈরি হয়েছে শঙ্কাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি গোপন পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
যিনিই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হবেন তাকেই হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া যেকোনো নেতাকেই তারা হত্যা করবেন। খবর এএফপির।
২০ ঘণ্টা আগে