ইরানি অবরোধ: হরমুজ প্রণালি সচলে ২২ দেশের যৌথ বিবৃতি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতীকী ছবি
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে জুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একজোট হয়েছে ২২টি দেশ। এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের নিন্দা জানিয়ে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশগুলো।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনও শামিল হয়েছে এই উদ্যোগে। তবে বেশিরভাগ দেশই ইউরোপের। শনিবার (২১ মার্চ) দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত। যেসব দেশ এরই মধ্যে এই পরিকল্পনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে, আমরা তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

বিবৃতিতে দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনার মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানায়। তারা অভিযোগ করে— ইরানি বাহিনী বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। জাপান এবং ইউরোপের পাঁচ দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের ওই বিবৃতিতে ইরানকে ‘উসকানি’ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরও বলেছিল, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা তৈরি করে তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। আরব উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত ও নৌ পথে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাগুলোকেও তারা তীব্র নিন্দা জানায়।

এ ছাড়া ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের ‘উসকানিমূলক’ কার্যক্রম, যেমন— মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট। বিশ্বব্যাপী যে তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই একটি রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান এই নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে।

এরপর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানের হুমকির মধ্যেও চলাচল করতে যাওয়া কমপক্ষে ১৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement