হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় একজোট ৬ দেশ, যৌথ বিবৃতি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হরমুজ প্রণালি। ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালি। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগে অংশ নিয়ে একজোট হয়েছে ছয় দেশ। জাপান এবং ইউরোপের পাঁচ দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে। তাতে ইরানকে ‘উসকানি’ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবিসি ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ফ্রান্সের এলিসি প্যালেস থেকে এ যৌথ বিবৃতি ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে যেসব দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট। বিশ্বব্যাপী যে তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই একটি রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা করার পর থেকে ইরান এই নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে।

এরপর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানের হুমকির মধ্যেও চলাচল করতে যাওয়া কমপক্ষে ১৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

ছয় দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা তৈরি করে তেহরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। আরব উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত ও নৌ পথে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাগুলোকেও তারা তীব্র নিন্দা জানায়।

যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে সব ধরনের ‘উসকানিমূলক’ কার্যক্রম, যেমন— মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা— বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে ছয় দেশ বলেছে, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের একটি মৌলিক ভিত্তি। এ প্রণালিতে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর।

এ প্রেক্ষাপটে ছয় দেশ বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস স্থাপনায়, সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পেট্রোলিয়াম মজুত সমন্বিতভাবে মুক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে যাওয়া জাহাজ হামলার শিকার হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ইউরোপের মিত্রদেশসহ এমনকি চীনের কাছেও সহযোগিতা চান, এসব দেশ যেন হরমুজ প্রণালিতে সামরিজ বাহিনী মোতায়েন করে। তবে ট্রাম্পের এ আহ্বানে সাড়া দেয়নি কোনো দেশ।

বিবৃতিতে ছয় দেশ বলছে, চলমান সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সহায়তায় তারা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কাজ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দেশগুলো।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement