হরমুজ অবরোধ: পারস্য উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ, ২০ হাজার নাবিক

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ২২
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধে পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ আটকা পড়ে আছে, ব্যাহত হচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহ। ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধে পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ আটকা পড়ে আছে, ব্যাহত হচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহ। ফাইল ছবি

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধে পারস্য উপসাগরে অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং এতে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। এসব বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আটকে পড়া ২ হাজার ১৯০টি জাহাজের মধ্যে ১২টি বৃহৎ গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সামুদ্রিক তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কেবল সীমিত ও কঠোর নিয়ন্ত্রিত জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম।

যেসব জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলবর্তী লারাক দ্বীপের কাছে অনুমোদিত একটি করিডোর দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। ‘লয়েডস লিস্টে’র হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে, যার বেশিরভাগই ইরান বা তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যেসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে, যা ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিত। তবে মালয়েশিয়ার মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি ও এমআইএসসির মতো কোম্পানির মালিকানাধীন কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালি পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে তাদের জাহাজের ওপর কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবে বিপুলসংখ্যক জাহাজ নোঙর করে অনুমতির অপেক্ষায় থাকায় বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে চীন নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুটি কন্টেইনার জাহাজ দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দ্রুতগতিতে উপসাগর ত্যাগ করেছে।

এ ছাড়া, গ্রিস পরিচালিত একটি তেলবাহী জাহাজ (যা সৌদি তেল নিয়ে ভারতে যাচ্ছিল) এবং ভারতীয় পতাকাবাহী কয়েকটি এলপিজি জাহাজও হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে। শিপিং সূত্র জানিয়েছে, অনেক নাবিক ঝুঁকি এড়াতে রাতে চলাচল করা বা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার মতো কৌশল অবলম্বন করছেন, যাতে মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে এসব বিচ্ছিন্ন চলাচল সত্ত্বেও সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপসাগর ও আশপাশের এলাকায় এখনও শত শত জাহাজ এবং আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক আটকা রয়েছেন।

পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ বুধবার হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে। আরেকটি জাহাজ বিকল্প পথ ব্যবহার করে বন্দরে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রায় ৩৫টি দেশের অংশগ্রহণে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যাতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় খোঁজা হবে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আবারও তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এ দাবি মানতে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement