সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ৬ হামলার দাবি হুতিদের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ৪২
৩ অক্টোবর রিয়াদের দক্ষিণে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় আগুন জ্বলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আরামকো। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
৩ অক্টোবর রিয়াদের দক্ষিণে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় আগুন জ্বলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আরামকো। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণের নাজরান অঞ্চলে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন। তবে হামলার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো বিবরণ দেয়নি।

ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগ তেল শোধনাগার এবং নাজরানে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তর।

রাস তানুরা, আবকাইক ও রাবিগ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দর দুটি দেশটির বেসামরিক ও সামরিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি স্থাপনায় হামলার সময়, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি হুতি মুখপাত্র।

এর আগে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষে রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিয়াদ, আল-খারজ ও নাজরান এলাকায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনা হুতিদের ঘোষিত ছয় হামলার অংশ কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এমন এক সময়ে হুতিরা হামলার দাবি করল, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। সোমবার তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। এতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইয়ের আয়োজনে ওই বৈঠক শেষে চার দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সামরিক উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার পথ খোলা রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে হুতিরা ওই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইয়েমেনে সৌদি ভূমিকার পালটা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে গোষ্ঠীটি। কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই নতুন হামলার এ দাবি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad