
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে ইরানে। এ অবস্থায় দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট তথা ইন্টারনেট থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার খবর মিলেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
দ্য গার্ডিয়ানের এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে এর আগেও বিক্ষোভ দমনের জন্য ইরান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ইন্টারনেট বন্ধ করেছে। বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য দেশেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে সরকারগুলোকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে নেওয়া ধারাবাহিক ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ। এতে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের যোগাযোগের অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নেটব্লকস আরও জানায়, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে ইন্টারনেট বিভ্রাট দেখা যায়, যখন নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করে।
রাজধানী তেহরান এবং প্রধান শহর মাশহাদ ও ইস্পাহানের বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। গার্ডিয়ান জানায়, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই। আন্দোলন থামারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে চলমান পরিস্থিতিতেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশ জুড়ে শহরগুলো শান্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার কুর্দি অঞ্চলে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় সাতটি কুর্দি রাজনৈতিক দল। সে ডাকে সাড়া দিয়ে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলসহ ইরানের বহু শহরে দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। হেঙ্গাও নামের একটি অধিকার সংগঠন ইলাম, কেরমানশাহ ও লোরেস্তান প্রদেশে বন্ধ দোকানের ভিডিও প্রকাশ করে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, কেরমানশাহ ও কাছের শহর কামিয়ারানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
এ দিন দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা সাবেক বিপ্লবী গার্ডসের আল-কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির একটি মূর্তি ভেঙে ফেলে। সরকারপন্থিদের কাছে তিনি প্রায় কিংবদন্তিতুল্য নায়ক হিসেবে বিবেচিত। যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, মূর্তি ভাঙার সময় বিক্ষোভকারীরা উল্লাস করছে।
বৃহস্পতিবার রাতেও বিক্ষোভ চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও এএফপির যাচাই করা ছবিতে দেখা যায়, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আয়াতুল্লাহ কাশানি বুলেভার্ডে বিপুল জনসমাগম। সেখানে বিক্ষোভের সমর্থনে গাড়ির হর্ন বাজানো হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানেও বিক্ষোভ হয়। আইএইচআর জানায়, বুধবার রাতে ওই শহরে এক নারী বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে।
আইএইচআর জানিয়েছে, আন্দোলনের ১২ দিনের মধ্যে বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। সেদিন অন্তত ১৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, তথ্যপ্রমাণ বলছে, দমন অভিযান প্রতিদিনই আরও সহিংস ও ব্যাপক আকার নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষ আহত ও দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এদিকে বুধবার তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স। ইরানের ভেতরের গণমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে এএফপি হিসাব করেছে।
তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো ব্যাপক না হলেও এ আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ আহত বিক্ষোভকারীদের ধরতে হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারী ও পথচারী— উভয়ের ওপরই অবৈধ বলপ্রয়োগ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দমনে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, যেকোনো সহিংস বা জোরপূর্বক আচরণ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি জনগণের দাবি শোনার জন্য সংলাপ ও সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন।
চলমান এ বিক্ষোভের মূলে রয়েছে দেশটির মুদ্রার আকস্মিক অবমূল্যায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুদ্রার দরপতন অব্যাহত রয়েছে, আর আমদানিকারকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত বিনিময় হার বাতিলের ঘোষণায় নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। গত এক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি, আর ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ। সরকার বলছে, অর্থনৈতিক সংকট সমাধান অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা দুর্নীতি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও মূল দায় চাপিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার ওপর— যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত আন্দোলনটি বিক্ষিপ্ত ও নেতৃত্বহীন বলেই দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে পুলিশের হেফাজতে নিহত মাহসা আমিনিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়েছিল, এবার তেমন কোনো কেন্দ্রীয় প্রতীক নেই। তবে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মানুষকে জানালা থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, আপনাদের সাড়া দেখে আমি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
পাহলভির প্রতি কতটা সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক ভিডিওতে কিছু বিক্ষোভকারীকে তার পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সরকারপন্থি একটি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে পাহলভির ডাকে সাড়া না দিতে সতর্ক করছে।
২০২২ সালের তুলনায় এবার দমন-পীড়নের মাত্রা কম হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার আগের চেয়ে নিজেকে কম নিরাপদ মনে করছে— বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
বাইরের দিক থেকেও চাপ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইরান যদি মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান বুধবার হুমকি দিয়েছেন— যে দেশগুলো ইরানকে হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানো হতে পারে।
সরকার ক্রমেই বিক্ষোভকারীদের সহিংস আখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও দাঙ্গাবাজ ও বিদেশি মদতপুষ্ট নাশকতাকারীরা আন্দোলনকে হাইজ্যাক করেছে। সরকারঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের দাবি, তেহরানের বাইরে এক পুলিশ কর্নেলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চেনারানে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে ইরানে। এ অবস্থায় দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট তথা ইন্টারনেট থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার খবর মিলেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
দ্য গার্ডিয়ানের এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে এর আগেও বিক্ষোভ দমনের জন্য ইরান কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ইন্টারনেট বন্ধ করেছে। বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য দেশেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে সরকারগুলোকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে নেওয়া ধারাবাহিক ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ। এতে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে জনগণের যোগাযোগের অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নেটব্লকস আরও জানায়, বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে ইন্টারনেট বিভ্রাট দেখা যায়, যখন নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করে।
রাজধানী তেহরান এবং প্রধান শহর মাশহাদ ও ইস্পাহানের বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। গার্ডিয়ান জানায়, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই। আন্দোলন থামারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে চলমান পরিস্থিতিতেও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশ জুড়ে শহরগুলো শান্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার কুর্দি অঞ্চলে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয় সাতটি কুর্দি রাজনৈতিক দল। সে ডাকে সাড়া দিয়ে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলসহ ইরানের বহু শহরে দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। হেঙ্গাও নামের একটি অধিকার সংগঠন ইলাম, কেরমানশাহ ও লোরেস্তান প্রদেশে বন্ধ দোকানের ভিডিও প্রকাশ করে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, কেরমানশাহ ও কাছের শহর কামিয়ারানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
এ দিন দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা সাবেক বিপ্লবী গার্ডসের আল-কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির একটি মূর্তি ভেঙে ফেলে। সরকারপন্থিদের কাছে তিনি প্রায় কিংবদন্তিতুল্য নায়ক হিসেবে বিবেচিত। যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, মূর্তি ভাঙার সময় বিক্ষোভকারীরা উল্লাস করছে।
বৃহস্পতিবার রাতেও বিক্ষোভ চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও এএফপির যাচাই করা ছবিতে দেখা যায়, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আয়াতুল্লাহ কাশানি বুলেভার্ডে বিপুল জনসমাগম। সেখানে বিক্ষোভের সমর্থনে গাড়ির হর্ন বাজানো হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানেও বিক্ষোভ হয়। আইএইচআর জানায়, বুধবার রাতে ওই শহরে এক নারী বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে।
আইএইচআর জানিয়েছে, আন্দোলনের ১২ দিনের মধ্যে বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। সেদিন অন্তত ১৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, তথ্যপ্রমাণ বলছে, দমন অভিযান প্রতিদিনই আরও সহিংস ও ব্যাপক আকার নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষ আহত ও দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এদিকে বুধবার তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স। ইরানের ভেতরের গণমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন বলে এএফপি হিসাব করেছে।
তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো ব্যাপক না হলেও এ আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ আহত বিক্ষোভকারীদের ধরতে হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারী ও পথচারী— উভয়ের ওপরই অবৈধ বলপ্রয়োগ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দমনে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, যেকোনো সহিংস বা জোরপূর্বক আচরণ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি জনগণের দাবি শোনার জন্য সংলাপ ও সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেন।
চলমান এ বিক্ষোভের মূলে রয়েছে দেশটির মুদ্রার আকস্মিক অবমূল্যায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুদ্রার দরপতন অব্যাহত রয়েছে, আর আমদানিকারকদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত বিনিময় হার বাতিলের ঘোষণায় নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। গত এক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি, আর ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ। সরকার বলছে, অর্থনৈতিক সংকট সমাধান অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা দুর্নীতি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও মূল দায় চাপিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার ওপর— যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত আন্দোলনটি বিক্ষিপ্ত ও নেতৃত্বহীন বলেই দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে পুলিশের হেফাজতে নিহত মাহসা আমিনিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হয়েছিল, এবার তেমন কোনো কেন্দ্রীয় প্রতীক নেই। তবে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মানুষকে জানালা থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, আপনাদের সাড়া দেখে আমি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
পাহলভির প্রতি কতটা সমর্থন রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক ভিডিওতে কিছু বিক্ষোভকারীকে তার পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সরকারপন্থি একটি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে পাহলভির ডাকে সাড়া না দিতে সতর্ক করছে।
২০২২ সালের তুলনায় এবার দমন-পীড়নের মাত্রা কম হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার আগের চেয়ে নিজেকে কম নিরাপদ মনে করছে— বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
বাইরের দিক থেকেও চাপ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইরান যদি মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে ওয়াশিংটন খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান বুধবার হুমকি দিয়েছেন— যে দেশগুলো ইরানকে হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানো হতে পারে।
সরকার ক্রমেই বিক্ষোভকারীদের সহিংস আখ্যা দিচ্ছে। তারা বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও দাঙ্গাবাজ ও বিদেশি মদতপুষ্ট নাশকতাকারীরা আন্দোলনকে হাইজ্যাক করেছে। সরকারঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের দাবি, তেহরানের বাইরে এক পুলিশ কর্নেলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চেনারানে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার সীমান্তে কোকেন পাচারকারী গেরিলাদের বিরুদ্ধে ‘যৌথ কার্যক্রম’ গ্রহণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে টেলিফোনে কথা হলে তখন তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
১১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলা নিয়ে তার পরিকল্পনার পক্ষে এসব কোম্পানির সমর্থন আদায় করাই এ বৈঠকের উদ্দেশ্য।
১২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালায়, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে’— এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, এটি ১৯৫২ সালে প্রণীত ডেনিশ সেনাবাহিনীর একটি নিয়মের প্রতিফলন, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৩ ঘণ্টা আগে