দিল্লিতে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, এবার ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ সিজেপির

‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এবার দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, যন্তর মন্তরের কাছে হাজারো সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আন্দোলনের হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে তারা ঘটনাস্থল থেকে আর কোনো হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারছে না।
পোস্টে বলা হয়, ‘আপনারা যদি ভাবেন, কেন আমরা ঘটনাস্থল থেকে আরও তথ্য দিতে পারছি না— তাহলে জেনে রাখুন, ভীতু কর্তৃপক্ষ শহরের কিছু অংশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।’
আরেকটি পোস্টে দলটি বলে, ‘ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারেন, কিন্তু যেসব বিক্ষোভকারী সবকিছু দেখছেন এবং দিল্লিতে কী ঘটছে তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন, তাদের চোখ-কান কীভাবে বন্ধ করবেন?’

পরবর্তী আরেকটি পোস্টে সিজেপি জানায়, ‘দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা ব্যাপক অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা আপনাদের সব সময় অবহিত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এই কঠিন সময়ে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি।’
সিজেপির ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগের সময়ই মধ্য দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও দলটির সমর্থকরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় বিপুলসংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। এ ছাড়া দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, সংসদমুখী এই কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে জারি করা নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে বলেও জানায় তারা।
তবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




















