রামলীলায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভে মানুষের ঢল, পালটা মিছিল বিজেপির

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের চলমান এ কর্মসূচির মধ্যেই ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বিচার ও কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে পশ্চিম দিল্লিতে পালটা মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুই দলের পালটাপালটি কর্মসূচি ঘিরে রোববার (১ নভেম্বর) উত্তাপ ছড়িয়েছে দিল্লিতে। শহর জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জড়ো হন বিরোধী জোটের নেতারা। সেখান থেকে খোলা বাসে তারা মিন্টো রোডে যান। পরে কনট প্লেস হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ মিছিল করে রামলীলা ময়দানে পৌঁছান।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ঢল। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ঢল। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

মিছিলে ছিলেন রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। বামপন্থি দলগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। মোট ২১টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল কর্মসূচিতে।

রামলীলা ময়দানে জড়ো হওয়া সমর্থকদের হাতে বিভিন্ন দলের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ‘ভোট চোর, গদি ছাড়ো’ ও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’সহ নানা স্লোগানে তারা রামলীলা মুখরিত করে রাখেন। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, সমাবেশে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল শুরুর আগে রামলীলা ময়দানের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল শুরুর আগে রামলীলা ময়দানের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

‘ইন্ডিয়া’ জোটের এ বিক্ষোভ কর্মসূচির মূল কারণ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় গত বছর থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। তাদের দাবি, বৈধ ভোটারদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী জোট।

ভার‍তের নির্বাচন কমিশন অবশ্য রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এই সংশোধন। ভুলভাবে বাদ পড়া ব্যক্তিরা পুনরায় নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ শুরুর আগে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন সমর্থকরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ শুরুর আগে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন সমর্থকরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

অন্যদিকে পশ্চিম দিল্লির হরি নগর থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। এতে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। অংশ নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিজেপির দিল্লি শাখার সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা, মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা, আইনজীবী এইচ এস ফুলকাসহ শিখ সম্প্রদায়ের নেতারা।

মিছিল থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী সহিংসতার জন্য কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

পুরী বলেন, ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে ২ হাজার ৭৩৩ জন শিখ নিহত হয়েছিলেন। এটি আকস্মিক দাঙ্গা নয়, পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।

বিরোধী জোটের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবিসংবলিত কাটআউট হাতে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
বিরোধী জোটের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবিসংবলিত কাটআউট হাতে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও সহিংসতার স্মৃতি তুলে ধরে কংগ্রেসের কর্মসূচির সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিজেপির অভিযোগ, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পর শুরু হওয়া শিখবিরোধী সহিংসতার বার্ষিকীতে সমাবেশ করে কংগ্রেস শিখ সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

কংগ্রেসের সমাবেশকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। তার অভিযোগ, বিরোধীরা গণতন্ত্রের নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধী অবশ্য সমাবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন চলবে।

মিছিলে যোগ দিতে রামলীলা ময়দানের দিকে যাচ্ছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সমর্থকরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
মিছিলে যোগ দিতে রামলীলা ময়দানের দিকে যাচ্ছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সমর্থকরা। ১ নভেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

দুই কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য, আধাসামরিক বাহিনী, দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়। রামলীলা ময়দানকে ১৪টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছিল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad