রামলীলায় রাহুলের হুঁশিয়ারি— মোদি-অমিতের কোনো ছাড় নেই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে ‘ভোট চুরি’র জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কারাগারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
পিটিআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে এসব কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। এ সময় তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, অন্যায়ের জন্য কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
রাহুল বলেন, ‘অমিত শাহ বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাচ্ছেন না। আমি বলছি, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যেতে পারবেন না। তিনি যেতে চাইলেও আমরা যেতে দেবো না। মোদি ও অমিত শাহ, শুনে নিন, জ্ঞানেশ কুমারের পর আপনাদের বিরুদ্ধেও আমরা দাঁড়াব। ভোট চুরির জন্য আপনাদের এবং নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিইসির পদত্যাগ দাবি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করে বিরোধীরা দিনভর এই কর্মসূচি পালন করে। রাহুলের ভাষায়, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোই হবে দেশকে সঠিক পথে ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল দাবি করেন, এনডিএ ও বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুল হিসাব দেখিয়ে বলেন, দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের একজন, অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু ভোট চুরি নয়, প্রত্যেক মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। আইনের ভাষায় এটি বিরলতম অপরাধ— রাষ্ট্রদ্রোহ।
তবে আরএসএস বা বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সহিংসতায় যাবে না বলেও জানান রাহুল। বলেন, ‘আমরা ঘৃণা ছড়াব না, ভালোবাসা দিয়ে লড়ব। কিন্তু সংবিধান ধ্বংস করতে দেবো না।’ তার অভিযোগ, আরএসএস দেশের সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
রাহুলের আগে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার বদলে প্রধানমন্ত্রীই ভোটার বেছে নিচ্ছেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, বিজেপি চায় শুধু তাদের দলের লোকেরাই ভোটার ও ভারতের নাগরিক থাকুক। উত্তর প্রদেশে এক কোটি ২৭ লাখ হিন্দু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, রাজ্যটির প্রতিটি বিধানসভা আসনে গড়ে ৩১ হাজার ভোট কমেছে। রামলীলা ময়দানকে তিনি ‘গণতন্ত্রের হলদিঘাটির’ সঙ্গে তুলনা করেন।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআরের কারণে পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। কিন্তু আমরা জীবন দিয়ে লড়ব, গণতন্ত্র রক্ষা করব।
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব সমাবেশকে মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভোটের লড়াইয়ে ‘শকুনির পাশা’ ঠেকাতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এ লড়াইকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন। সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, বিজেপি দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, উত্তর প্রদেশে বাদ পড়া হিন্দু ভোটাররাও কি পাকিস্তানি? পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগ তুলে বিজেপির হিন্দুত্বের দাবিকে আক্রমণ করেন।













