হিমবাহের হ্রদ উপচে ভুটানে আকস্মিক বন্যা, উত্তরাঞ্চল বিপর্যস্ত

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
হিমবাহের হ্রদ উপচে ভুটানের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা। ছবি: সংগৃহীত
হিমবাহের হ্রদ উপচে ভুটানের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা। ছবি: সংগৃহীত

হিমবাহের হ্রদ উপচে আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভুটানের উত্তরাঞ্চল। বৃহস্পতিবার রাতে শিনতাপু হ্রদের বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে নিচের উপত্যকায়। এতে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গাসা ছাচুর উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে। অন্তত দুটি অস্থায়ী সেতুও ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্রও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভুটানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিবিএসের বরাত দিয়ে রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। এদিকে দেশটির সংবাদপত্র কুয়েনসেল জানিয়েছে, গাসা ছাচু থেকে লায়া গ্রামের দিকে যাওয়ার সড়কের একটি অংশ পানিতে ভেসে গেছে। এ কারণে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ থাকবে।

বন্যার পানিতে পুনাখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার পানিতে পুনাখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

বন্যার পর নদীর গতিপথে পলি ও পাথর জমে নতুন একটি জলাধার তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেটি ভেঙে গেলে ভাটির এলাকায় আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মোচু ও পুনাৎসাংছু নদীর উপত্যকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর তীর ও নিচু এলাকায় না যেতেও বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনার প্রভাব ভুটানের বাইরেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডি জানিয়েছে, শিনতাপু হ্রদ উপচে পড়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নদী অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হ্রদটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা ছিল। তবে সেখান থেকে ঠিক কতটা পানি নেমে এসেছে, তা এখনো নিরূপণ করা যায়নি।

হিমবাহ গলে হ্রদে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভুটান, ভারত ও নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হিমবাহের প্রাকৃতিক বা আশপাশের বরফের বাঁধ ভেঙে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার ঘটনাকে বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (জিএলওএফ)।

এর আগে ২০২১ সালেও গাসা ছাচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সে সময় মোচু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পর্যটনকেন্দ্রটির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এবারের বন্যায় আবারও হিমালয়ের পার্বত্য জনপদগুলোর দুর্যোগঝুঁকি এবং আগাম সতর্কব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad