ফ্রান্সে ফের উত্তেজনা, সোমবার বন্ধ ৪ শতাধিক স্কুল

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ফ্রান্সের লিওঁ শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের লিওঁ শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও সরকারি অবহেলার অভিযোগে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মুখে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। অন্যদিকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ফের বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে রোববার (৪ অক্টোবর) জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় স্কুলগুলোতে পাঠদান স্থগিত রাখা হচ্ছে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৭৮ জন শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তবে সোমবার থেকে ধীরে ধীরে আংশিকভাবে ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রাজধানী ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। হাজারও শিক্ষার্থী সড়কে নেমে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ আহত এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংকট ও কম বেতন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন। কোথাও শ্রেণিকক্ষে ৪০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। বিভিন্ন স্কুলে ছাদ ধসে পড়া, পানি পড়া, তেলাপোকার উপদ্রব ও ভবনের দীর্ঘদিনের সংস্কার না হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ স্কুল সময়, তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে অসহনীয় পরিবেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল অনলাইন ব্যবস্থা।

সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও বিক্ষোভে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, উগ্র বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে সেটিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার দাবি, শিক্ষা কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার শিকার করা হচ্ছে, যা আগে দেখা যায়নি।

রোববার দক্ষিণাঞ্চলীয় লা সিওতাতে এক শিক্ষককে হামলার ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবারের বিক্ষোভে ৫৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষককে পেট্রল ঢেলে মারধর করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, সরকার এখনো সংকট সমাধানে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ নেয়নি।

এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর সরকারও বাজেট কাটছাঁট নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর ধর্মঘটের পর এবার ইউনিয়নগুলো আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। তারা সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং অতি-ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের দাবি করছে।

ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুল সংকটের আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে ম্যাখোঁ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement