স্পেনে অভিবাসীদের ঢল, স্বেচ্ছায় মরক্কো ফিরেছেন ৪৮ হাজারের বেশি

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১০
সমুদ্রপথে সাঁতরে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করছিলেন ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রপথে সাঁতরে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করছিলেন ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতায় (সেউতা) মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে হাজারো অভিবাসীর ঢলের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। স্পেনের সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করা মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) ফ্রান্স২৪-এর খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেউতা সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা (গ্রিনিচ সময় ১৬০০) পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ অভিবাসী সীমান্ত পেরিয়ে আবার মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

এদিকে আরও মানুষ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় ঢুকতে না পারেন, সে জন্য মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত ফটকে জড়ো হওয়া জনতাকে লাঠিপেটা করে এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ভূমধ্যসাগরের উপকূলে মরক্কোর ভেতরে অবস্থিত স্পেনের ছোট এই ছিটমহলে নতুন করে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতেই তারা এ পদক্ষেপ নেয়।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেউতার পরিস্থিতিকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের (ইউরোপীয়) ইউনিয়নের নিয়ম না মেনে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া যায় না।"

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইতালি স্পেনকে ইউরোপের উন্মুক্ত সীমান্তব্যবস্থা শেনজেন অঞ্চল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানায়। এর জেরে স্পেন ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং রোমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে এই সংকটকে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলে।

শুক্রবার ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইতালির ওই আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানায়। একই সঙ্গে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস মরক্কোর প্রতি 'অবৈধ অভিবাসীদের অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া'র আহ্বান জানান।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেতে ফ্রেডেরিকসেনও বলেন, হাজারো অভিবাসীর সেউতায় প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত স্পেনকে শেনজেনের মুক্ত চলাচল ব্যবস্থার বাইরে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা।

এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শেনজেন সহযোগিতা স্থগিত করাসহ সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন ইউরোপ এবং ডেনমার্কের জন্য হুমকি।"

এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হঠাৎ করে অভিবাসীর এই ঢল সামাল দিতে তারা স্পেনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা স্পেন সীমান্তে নজরদারি ও তল্লাশি আরও জোরদার করছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement